সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কৃষি, উদ্যানপালন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ নিয়ে গবেষণা ও কৃষকদের পরামর্শ দিতে মুরারইয়ে গড়ে উঠবে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র। শনিবার বিকেলে প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করলেন জেলাশাসক বিধান রায়, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, স্থানীয় বিধায়ক মোশারফ হোসেন, মুরারই-১ বিডিও বীরেন্দর অধিকারী প্রমুখ। সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলার মধ্যে বোলপুরের শ্রীনিকেতনে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র রয়েছে। যা বহু পুরনো। যদিও শ্রীনিকেতন এলাকা বর্তমানে শহরের চেহারা নিয়েছে। তাই বহুদিন ধরেই গ্রাম্য পরিবেশে রাজ্য প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছিল সরকার। অবশেষে ঠিক হয় কৃষিপ্রধান মুরারই-১ ব্লকে এই কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। জানা গিয়েছে, কেন্দ্র গড়ে তুলতে ২৫একর জায়গা দরকার। সেইমতো পাঁচ বছর আগে এই ব্লকের পলশা গ্রামের মোড়ে পিডব্লুডির অধীনে থাকা ২৫ একর জায়গা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত হয়। ২০২০সালে নভেম্বরে সেই জায়গা পরিদর্শন করেন রাজ্য প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পূর্ণেন্দু বিশ্বাস সহ স্থানীয় আধিকারিকরা। কিন্তু সেই জায়গার কিছুটা দখল হয়ে রয়েছে। তা দখলমুক্ত করে রাজ্য প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়কে হস্তান্তর করার জন্য বলেন। কিন্তু পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই জায়গা দখলমুক্ত হয়নি। সেই অবস্থাতেই পড়েছিল। সম্প্রতি সেই জায়গায় কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র গড়ে তুলতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। সেইমতো শনিবার প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করেন প্রশাসনিক কর্তা থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, কৃষিভিত্তিক জেলা বীরভূম। ফলে এখানে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র দরকার। এই জেলার শ্রীনিকেতনে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু এখন বোলপুর তো আর গ্রাম নেই। তাই একদম গ্রামের মধ্যে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া মুরারই, নলহাটি ও রামপুরহাট থেকে শান্তিনিকেতনের দূরত্ব ১০০কিলোমিটারের কাছাকাছি। এতে সরকারকে শুধু জমি দিতে হয়। বাকি আর কোনও খরচ রাজ্য সরকারকে দিতে হয় না। পুরো খরচ বহন করে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড রিসার্চ। তিনি বলেন, এখানে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র হলে এই জেলার কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে সুবিধা হবে। কারণ, এখানে বিশেষজ্ঞরা থাকবেন।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ধান ছাড়াও সব্জি, মাছ ও নানারকম ফসল নিয়ে গবেষণা করবেন বিজ্ঞানীরা। এজন্য কৃষি, উদ্যানপালন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদের বিজ্ঞানীরা এই কেন্দ্রে নিযুক্ত হবেন। এই কেন্দ্র থেকে মাটি পরীক্ষা, বিভিন্ন ধরনের বীজ, শস্যের গুণমান বৃদ্ধি করা হবে। আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য জানানোর ব্যবস্থাও করা হবে। বিধায়ক মোশারফ হোসেন বলেন, প্রকল্পের জন্য ২৫একর জমি দরকার। বর্তমানে বেশকিছু জায়গা দখল করে বাড়িঘর গড়ে উঠেছে। সেগুলো দখলমুক্ত করে ২৫একর জায়গা বের করে প্রস্তাব পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
বিডিও বলেন, প্রস্তাবিত জায়গার কিছুটা দখল হয়ে গিয়েছে। সেগুলি দখলমুক্ত করতে বলেছেন জেলাশাসক। দখলদারদের নোটিস করা হবে। কিছুদিনের মধ্যে জেলায় আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সফর শেষ হওয়ার পরই ওই জায়গা দখলমুক্ত করার কাজ শুরু হবে।