Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘অমানবিক’, মমতার নিশানায় বাম-বিজেপি, ‘আশা হারাবেন না, ধৈর্য রাখুন’

‘অমানবিক’, মমতার নিশানায় বাম-বিজেপি, ‘আশা হারাবেন না, ধৈর্য রাখুন’
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘বাংলায় ২৬ হাজারের চাকরি গিয়েছে শুধুমাত্র বিজেপি ও সিপিএমের জন্য। কারণ, তারা বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে চায়’—বৃহস্পতিবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর চাকরিহারাদের পাশে দাঁড়িয়ে এভাবেই গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টকে অসম্মান না করে এবং এই রায় মেনে নিয়েও তিনি জানিয়ে দিলেন, মানবিকতার খাতিরে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে তাঁর কষ্ট হচ্ছে। ‘অমানবিক’ এবং ‘আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ’ দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। কারণ তাঁর মতে, একজন দোষীর জন্য সবার সাজা হতে পারে না। তিন মাসের সময়সীমার উল্লেখ করে চাকরিহারাদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘আশা রাখুন, ধৈর্য হারাবেন না।’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিন মাসের মধ্যে চাকরিহারাদের সুরাহা দিতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, এসএসসি কিন্তু স্বশাসিত সংস্থা। তাঁর একটি মন্তব্যে চাকরিহারা এবং চাকরিপ্রার্থী, উভয়েই আশার আলো দেখেছেন। কারণ মমতা বলেছেন, মামলা সংক্রান্ত সবকিছু মিটে গেলে স্কুল-কলেজে আরও ১ লক্ষ শূন্যপদে চাকরির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘মানসিক চাপ নেবেন না। আপনারা নতুন আবেদন করতে পারবেন। মনে রাখবেন, আমরা পাশে ছিলাম, আছি, থাকব। তাতে যদি বিজেপি আমাকে জেলে পুরে দেয়, পরোয়া করি না।’ চাকরিহারাদের পাশে দাঁড়াতে ৭ এপ্রিল, সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের সমাবেশেও যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

Advertisement

সুপ্রিম রায়ের পরই নবান্নে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, শিক্ষাসচিব এবং আইনজীবীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন মমতা। তারপর সাংবাদিকদের সামনে দিল্লির বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, ‘কোনও বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তাঁর শাস্তি যদি বদলি হয়, তা হলে পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রেও সেই নীতি কেন নেওয়া হল না? আমি বিশ্বাস করি, এটা বিজেপি করিয়েছে। সিপিএম করিয়েছে।’ তাঁর সাফ কথা, ‘এটা বাংলার বিরুদ্ধে বাম-বিজেপির চক্রান্ত। বাংলার মেধা ও প্রতিভাকে কি ভয় পাচ্ছে ওরা?’ 
বাম আমলের ‘চিরকুট চাকরির’ কথা স্মরণ করিয়ে সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ  বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে বাংলার অগ্নিকন্যার কটাক্ষ, ‘মামলাটা করেছিলেন কে? বিকাশবাবু। তিনি তো পৃথিবীর বৃহত্তম আইনজীবী। তিনি কেন এখনও নোবেল পাচ্ছেন না, আমি জানি না। পাওয়া উচিত। ভাবছি সুপারিশ করব।’ একযোগে তাঁর নিশানায় ছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি তথা বর্তমানে বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ও। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের এক বিচারপতি চাকরি বাতিলের কথা বলেছিলেন। তিনি এখন বিজেপির সাংসদ। কী হয়েছে, সব বোঝা যাচ্ছে।’ নির্দিষ্ট একটি জেলায় কীসের বিনিময়ে চাকরি হয়েছে, তাও তাঁর সরকার খুঁজে বের করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন মমতা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ