প্রীতেশ বসু, কলকাতা: পরিকাঠামো উন্নয়নই ২০০৮ সালের আর্থিক মন্দার হাত থেকে বাঁচিয়েছিল ভারতকে। এবার ২০৪৭-এর বিকশিত ভারতকে সামনে রেখে সেই পরিকাঠামো উন্নয়নই বড়ো হাতিয়ার কেন্দ্রের। কিন্তু, পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন জমি। জমির অভাবেই ধাক্কা খায় বহু প্রকল্প—মূলত রাস্তা এবং জাতীয় সড়ক। এবার সময়মতো জমির জোগান সুনিশ্চিত করতে রাজ্যগুলিকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামছে কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যেই জমি অধিগ্রহণে গতি আনতে গুজরাতে স্ট্যাচু অব ইউনিটিতে বিশেষ চিন্তন শিবির ডাকল নয়াদিল্লি। যেখানে রাজ্যের তরফে যোগ দিচ্ছে পূর্তসচিব অন্তরা আচার্যের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল।
নবান্ন সূত্রের খবর, আগামী ৫ এবং ৬ অক্টোবর এই চিন্তন শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে কেন্দ্রীয় সড়ক উন্নয়ন মন্ত্রী নীতিন গাদকারির উপস্থিতিতে পরিকাঠামো উন্নয়নের নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনায় বসবেন কেন্দ্র এবং রাজ্যের পদস্থ কর্তারা। তবে এই আলোচনা শিবিরে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সমাধানসূত্রও খোঁজার চেষ্টা করবেন তাঁরা। তার উপর ভিত্তি করে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যায় দ্রুত ইতি টানার গাইডলাইন প্রকাশ করতে পারে কেন্দ্র। জাতীয় সড়কের জন্য কেন্দ্রীয় আইন বলেই জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তা সত্ত্বেও বহু ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নিয়ে জমিদাতা এবং সরকারের মধ্যে মামলা গড়ায় আদালতে। দীর্ঘদিন মামলা চলায়, ধাক্কা খায় পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ। কেন্দ্র এবং রাজ্য এবার তা একেবারেই চাইছে না। কেন্দ্রের এই মনোভাব রাজ্যকে লেখা চিন্তন শিবির সংক্রান্ত চিঠি থেকেই পরিষ্কার।
অভিজ্ঞ আমলাদের মতে, শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, কমবেশি প্রতিটি জেলাতেই জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। ফলে পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর ভিত্তি করে দেশের আর্থিক হাল ফেরাতে কেন্দ্রের এই উদ্যোগ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। জমি অধিগ্রহণের জন্য ‘ভূমি রাশি’ নামাঙ্কিত একটি পোর্টাল চালু রয়েছে কেন্দ্রের। কিন্তু, এই পোর্টালে কাজ করতে গিয়েও অনেকসময় হোঁচট খেতে হয় আধিকারিকদের। ফলে এই ইস্যু নিয়েও জোর চর্চা হবে এই আলোচনা সভায়।
আবার দ্রুত প্রকল্প রূপায়ণের জন্য রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয়ে পিএম গতিশক্তি জাতীয় মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ। তার মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি পোর্টালে জাতীয় সড়ক সংলগ্ন প্রতিটি রাস্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর তথ্য তোলা হবে। যাতে কোনো প্রকল্প হাতে নেওয়া হলে এক ক্লিকেই সেই এলাকায় অবস্থিত রাস্তাসহ সরকারি যেকোনো পরিকাঠামোর তথ্য পাওয়া যায়। এই ইস্যু নিয়েও গুজরাতের চিন্তন শিবিরে আলোচনা হবে বলেও সূত্রের খবর।