নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকদের মধ্যে বেনোজল রয়েছে। সরকার সেই গ্রাহক তালিকাকে সংশোধন করবে। সোমবার পেট্রলিয়াম মন্ত্রক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, পূর্বতন জমানার কারণে রেশন কার্ড থেকে শুরু করে বার্ধক্যভাতার পাশাপাশি উজ্জ্বলা গ্রাহক তালিকাতেও অনেক খামতি রয়েছে। সেগুলিকে ঠিক করার কাজ শুরু হবে। এসআইআরে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা ভারতীয় নন। সরকারি প্রকল্পে তাঁদের কোনো সুবিধা দেওয়া হবে না।
প্রসঙ্গত, এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার তরফে ইঙ্গিত ছিল, এরাজ্যের ১৪ লক্ষ উজ্জ্বলা গ্রাহকের সঠিক হদিশ নেই। তাই তারা আদৌ বৈধ গ্রাহক কি না, তা যাচাই করা হবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, উজ্জ্বলা যোজনার প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় এরাজ্যে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলেও তৃতীয় দফায় পূর্বতন রাজ্য সরকার বাধা দিয়েছে। এরাজ্যে ১৫ লক্ষ গ্রাহকের জন্য প্রকল্পের অনুমোদন মিললেও তা কার্যকর হয়নি। ইচ্ছুক গ্রাহকরা আবেদন করলেও ডিএম অফিস থেকে তা কার্যকর করার ব্যবস্থা রুখে দেওয়া হয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, হলদিয়ায় ইন্ডিয়ান অয়েলের পরিশোধনাগারের সম্প্রসারণের জন্য তাঁরা জমির ব্যবস্থা করবেন। তিনি বলেন, এর আগের পর্যায়ে ৮৫ একর জমি দেওয়া হয়েছে হলিদয়া উন্নয়ন পর্ষদের মাধ্যমে। সংস্থার চাহিদা মতো আরও ১৭৫ একর জমি দেওয়া হবে। এই ব্যাপারে পোর্ট ট্রাস্টের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে।
এদিন কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে ভারত সুষ্ঠুভাবে যুঝতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর সবচেয়ে বেশি চিন্তা ছিল এলপিজি নিয়ে। কারণ, তার সিংহভাগ হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে। কিন্তু সেই সমস্যাও কাটিয়ে উঠেছে সরকার। অন্যদিকে, সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিগত সরকারের অনিচ্ছার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, অশোকনগরে ওএনজিসি এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বসলেও তদানীন্তন সরকার জমি লিজের ছাড়পত্র দেয়নি। এমনকি চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার পর্যন্ত করেনি। বর্তমানে সেখানে বাণিজ্যিক উত্তোলন চলছে। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গও পেট্রলিয়াম পরিকাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে আগামী দিনে। আগামী জানুয়ারি মাসে কলকাতায় বসতে চলেছে ইন্ডিয়া এনার্জি উইকের অধিবেশন। ইতিমধ্যেই সেই অনুষ্ঠানের জন্য ১৭ হাজার বর্গমিটার এলাকা বুকিং হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীও বলেন, এই অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে এরাজ্যে আরও বেশি বিনিয়োগ আসবে।