ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: উত্তরের বহু আসনে প্রার্থী নিয়ে দলের অন্দরে চরম কোন্দল। আর এতেই পদ্ম শিবিরে চওড়া হচ্ছে অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা ভোটে সাবোতাজ করতে পারেন, এমন শঙ্কায় তাঁদের উপর বাড়ানো হচ্ছে ‘নজরদারি’। প্রাথমিক পর্যায়ে পদ্ম শিবিরের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ সামাল দিতে আসরে নামানো হয়েছে ভিনরাজ্যের বিস্তারকদের। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের নিয়ে এলাকায় এলাকায় বৈঠক করছেন তাঁরা। কিন্তু শেষপর্যন্ত যদি কোন্দল না মেটে, সেক্ষেত্রে বিক্ষুব্ধ কর্মীদের গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে বিজেপি নেতৃত্বকে। বিক্ষুব্ধরা অন্য কোনো দলের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ রাখছেন কি না কিংবা বিজেপির অন্দরের খবর অন্য দলের নেতাদের কাছে ‘পাচার’ করছেন কি না, খোঁজ রাখতে বলা হয়েছে তা নিয়ে। এই পরিস্থিতিতে মাল বিধানসভায় ২০১৬ ও ২০২১ সালের বিজেপি প্রার্থী তথা দলের জেলা কমিটির সদস্য মহেশ বাগের বক্তব্যে প্রকাশ্যে এসে পড়েছে বিজেপির অন্দরের ছবিটা। দলের জেলা কমিটির সদস্য মহেশ বাগে বলেন, মালবাজারে দলের প্রার্থীকে মেনে নিতে পারছেন না কর্মীদের অনেকে। এই ক্ষোভ থেকে অন্য দলের সঙ্গে কারো কারো যোগাযোগও চলছে বলে জানতে পেরেছি। আমরা কর্মীদের বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছি। কিন্তু তাতে আখেরে কতটা লাভ হবে, তা জানি না।
যদিও উত্তরের কোনো আসনেই সাবোতাজের আশঙ্কা নেই বলে দাবি বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামীর। শুক্রবার তিনি বলেন, প্রার্থী নিয়ে কর্মীদের বক্তব্য থাকতে পারে। নিশ্চয়ই তা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হবে। তবে দল যাঁকে টিকিট দিয়েছেন, তাঁকেই মেনে নিতে হবে।
তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ বলেন, বিজেপি কর্মীদের অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে রাজ্য সরকারের উন্নয়ন আর নিজেদের সংগঠনের জোরেই জিতব আমরা।
বিজেপির প্রার্থী ঘিরে মালবাজার হোক কিংবা ময়নাগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, মাদারিহাট, কোচবিহার দক্ষিণ, রাজগঞ্জ ও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি সর্বত্রই দলের নীচুতলার কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে। আগামী ৫ এপ্রিল উত্তরবঙ্গে নির্বাচনি প্রচারে আসার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। কিন্তু তার আগে প্রার্থী নিয়ে কর্মীদের ক্ষোভ বিক্ষোভ আদৌও পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে খোদ নেতৃত্ব।
তিন দফায় নাম ঘোষণার পরও উত্তরের সব আসনে এখনেও প্রার্থী দিতে পারেনি বিজেপি। তার উপর রাজগঞ্জে রাজবংশী মুখকে প্রার্থী করার দাবিতে সরব হয়েছেন পদ্ম পার্টির কর্মীরা। ময়নাগুড়িতে প্রার্থী বদলের দাবিতে বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে চিঠি লিখেছেন কর্মীদের একাংশ। মালবাজারে বিজেপি প্রার্থীকে মানতে না পেরে পার্টি অফিস ভাঙচুর ও আগুন ধরানোর চেষ্টা হয়েছে। আলিপুরদুয়ার ও মাদারিহাটে বিজেপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছেন দলের কর্মীরাই। কোচবিহার দক্ষিণে ফ্লেক্স পড়েছে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে। যদিও এসব কোনেও বিষয় নয় বলে দাবি বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামীর। তিনি বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, সব ভোট পদ্মফুলেই পড়বে।
বিজেপির রাজ্য সহসভাপতি দীপক বর্মন বলেন, কর্মীদের মান-অভিমান থাকলেও, দলের বিরুদ্ধে কেউ নন। ফলে সাবোতাজের কোনো প্রশ্নই নেই।