নয়াদিল্লি: না আছে ঢাল, না তরোয়াল। দেশের অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালন সংস্থাগুলির দশা নিধিরাম সর্দারের শামিল! মাত্র তিন মাস আগেই এবিষয়ে মোদি সরকারকে সতর্ক করেছিল সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি। চলতি বছর মার্চে সংসদে রিপোর্ট পেশ করে সাফ জানানো হয়েছিল, ‘বরাদ্দে অসঙ্গতি’ ও অসংখ্য শূন্যপদের কারণে বিমানযাত্রায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। খোদ অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টর জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনেই (ডিজিসিএ) ৫৩ শতাংশ পদ ফাঁকা। এছাড়া ব্যুরো অব সিভিল এভিয়েশন সিকিওরিটি (বিসিএএস) এবং এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এএআই) মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলিতে কোথায় কত পদ ফাঁকা হয়ে পড়ে রয়েছে, তার হিসেব পেশ করে কমিটি। বিমানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকাঠামো ও দুর্ঘটনা নিয়ে উপযুক্ত তদন্ত চালানোর দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। আমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান বিপর্যয়ের পর নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে সংসদীয় কমিটির ওই রিপোর্ট। বরাদ্দ ও শূন্যপদ পূরণে মোদি সরকার কি আদৌ কোনও পদক্ষেপ নিয়েছিল? সেই প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।
জেডিইউ সাংসদ সঞ্জয় ঝায়ের নেতৃত্বে পরিবহণ, পর্যটন ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গত ২৫ মার্চ সংসদে ওই রিপোর্টটি পেশ করে। সেখানে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন সংস্থাগুলিতে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি রয়েছে। ২০২৫-২৬ সালে বরাদ্দ মোট অর্থের প্রায় অর্ধেক, ৩০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে ডিজিসিএর জন্য। সেই তুলনায় বিসিএএস এবং এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (এএআইবি) জন্য বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ অনেক কম। কমিটির বক্তব্য ছিল, দেশে অসামরিক বিমান পরিবহণ পরিকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটছে। ২০১৪ সালে বিমানবন্দরের সংখ্যা ছিল ৭৪টি। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৭টি। ২০২৫ সালের মধ্যে তা আরও বাড়িয়ে ২২০টি করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। পরিকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিমানের নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনার উপযুক্ত তদন্তের ক্ষেত্রে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাই দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে দক্ষতা বৃদ্ধি ও আগাম প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। সেই সূত্রেই বিভিন্ন সংস্থায় বরাদ্দ অর্থের ‘অসঙ্গতি’র বিষয়টি সরকারের নজরে আনা হয় কমিটির তরফে। একইসঙ্গে এইসব সংস্থায় যে প্রয়োজনীয় কর্মীর অভাব রয়েছে, রিপোর্টে তারও উল্লেখ করা হয়। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রককে এই রিপোর্টের মাধ্যমে কমিটি জানায়, ডিজিসিএতে মোট ১৬৩৩টি পদের মধ্যে ৮৭৯টি পদই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। বিসিএএসে ৫৯৮টির মধ্যে খালি ২০৮টি (প্রায় ৩৫ শতাংশ) পদ। এএআইয়ের অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো। ১৯,২৬৯টি পদের মধ্যে ৩,২৬৫টি (১৭ শতাংশ) ফাঁকা। আমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার আবহে সংসদীয় কমিটির ওই রিপোর্ট স্বাভাবিকভাবেই সরকারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।