Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

বাজেটের প্রশংসা, ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন চায় শিল্পমহল

রবিবারের বাজেট পর্ব মিটতেই রীতিমতো ধাক্কা খায় শেয়ার বাজার। বাণিজ্যমহল যে এই বাজেটে খুশি নয়, তার ইঙ্গিত ছিল শেয়ার সূচকের পতন।

বাজেটের প্রশংসা, ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন চায় শিল্পমহল
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবারের বাজেট পর্ব মিটতেই রীতিমতো ধাক্কা খায় শেয়ার বাজার। বাণিজ্যমহল যে এই বাজেটে খুশি নয়, তার ইঙ্গিত ছিল শেয়ার সূচকের পতন। তবু বাজেটের প্রশংসা করল শিল্পমহল। তাদের বক্তব্য, এই বাজেটে জোর দেওয়া হয়েছে পরিকাঠামো উন্নয়নে। ছোটো শিল্পের পাশে দাঁড়াতে গড়া হয়েছে তহবিল। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে বাড়ানো হয়েছে বরাদ্দ। এইসবই সদর্থক পদক্ষেপ। প্রশংসার পাশাপাশি তারা দাবি করেছে, শুধু ঘোষণা করলেই হবে না। তা যাতে বাস্তবে দ্রুত কার্যকর হয়, সেই দিকটিতেও নজর দেওয়া জরুরি।

Advertisement

বণিকসভা ফিকি-এর ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রশান্ত বাঙ্গুরের কথায়, ১২.২ লক্ষ কোটি টাকার মূলধনী ব্যয়ের পরিকল্পনা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাস্টার বা শিল্পগুচ্ছ তৈরি, পণ্য করিডর বা পণ্য পরিবহণ ও মজুতকরণে জোর দেওয়ার মতো পদক্ষেপগুলি প্রশংসনীয়। মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দাবি, এবার বাজেটে যেভাবে তুলনামূলক ছোটো শহরগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে, তা যে শুধু আর্থিক কর্মকাণ্ড বাড়াবে, তা নয়, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও সম্ভব হবে। ছোটো শিল্পের প্রসারে যেমন গড়া হয়েছে ১০ হাজার কোটির তহবিল, তেমনই সেলফ রেলিয়্যান্ট ইন্ডিয়া ফান্ডে আরও দু’হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ছোটো শিল্পের জন্য এই পদক্ষেপে মার্চেন্টস চেম্বারের পাশাপাশি প্রশংসা করেছেন ফেডারেশন অব অ্যাসোসিয়েশন অব কটেজ অ্যান্ড স্মল ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট হিতাংশুকুমার গুহ। বণিকসভা সিআইআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় চেয়ার‌ম্যান শাশ্বত গোয়েঙ্কার কথায়, এবারের বাজেটে যে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা শিল্পমহলকে আস্থা জোগাবে। সিআইআইয়ের আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় বুধিয়া বলেন, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর হাতে কোনো জাদুদণ্ড নেই, যা দিয়ে তিনি সব সমস্যার সমাধান করতে পারেন। বিশ্বে অর্থনৈতিকভাবে যে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতীয় পণ্যের আরো বেশি অংশীদারিত্ব জরুরি। ১০ হাজার কোটি টাকায় যে কন্টেনার উৎপাদন সংক্রান্ত প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে, তা পণ্য প্রেরণে বিদেশি নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।

ভারত চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট নরেশ পাচিসিয়া বলেন, বেশকিছু ঘোষণা এবারের বাজেটে রয়েছে, যা শিল্পের শ্রীবৃদ্ধি আনবে। ব্যবসার পথ সহজ করা, কর সংক্রান্ত জটিলতা হ্রাস, নয়া আয়কর আইন আগামী অর্থবর্ষ থেকে চালু হওয়া অত্যন্ত সদর্থক পদক্ষেপ। তবে যেভাবে বিশ্বজুড়ে কর সংক্রান্ত জটিলতা বাড়ছে, তাতে সরকার কত তাড়াতাড়ি বাজেটের ঘোষণাগুলির বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটাই দেখার। বেঙ্গল চেম্বারের প্রেসিডেন্ট অভিজিৎ রায়ের কথায়, বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত দ্রুত গতির রেল করিডর, ডানকুনি থেকে সুরাত পর্যন্ত পণ্য পরিবহণ করিডর, দুর্গাপুরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর এরাজ্যের বাণিজ্যিক উন্নয়নে সহায়তা দেবে। ইমামি লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান ও এমডি হর্ষবর্ধন আগরওয়াল বলেন, যেভাবে আয়ুষ এবং চিকিৎসাক্ষেত্রকে এই বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা দেশে ভোগ্যপণ্য ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা সংক্রান্ত ব্যবসার বাজার বাড়াতে সাহায্য করবে।

বণিকসভা আইসিসি’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পার্থিব নেওটিয়া বলেন, সেমিকন্ডাক্টর, এআই, চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রভৃতি ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার। এবারের বাজেটে সেগুলিতে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ