নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নবান্ন তথা রাজ্যের ক্ষমতায় কারা আসতে চলেছে, তার ঘোষণা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। শিল্পমহলের আশা, নতুন সরকার শিল্পের জন্য আরও সংস্কারের পথে এগোবে। তার হাত ধরেই দরজা খুলবে আরও লগ্নির।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নবান্ন তথা রাজ্যের ক্ষমতায় কারা আসতে চলেছে, তার ঘোষণা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। শিল্পমহলের আশা, নতুন সরকার শিল্পের জন্য আরও সংস্কারের পথে এগোবে। তার হাত ধরেই দরজা খুলবে আরও লগ্নির।
এরাজ্যে শিল্পের জমি নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি সীমা আছে। চাইলেই ইচ্ছামতো জমি কিনতে পারে না শিল্পমহল। সেই আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠবে রাজ্য, আশায় শিল্পমহল। বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল শুভাশিস রায় বলেন, শিল্পসংস্থা যখন বাজার দরে জমি কেনে, তাদের জমির আয়তনের ব্যাপারে স্বাধীনতা দেওয়া দরকার। পাশাপাশি আমরা আশা করব, নতুন প্রশাসন শিল্পমহলকে বিনিয়োগে আরও উৎসাহ দেবে। লগ্নি করতে গিয়ে যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে সেই অভিযোগ শোনা ও তার সুরাহার জন্য নির্দিষ্ট কোনো উইন্ডো বা ব্যবস্থা রাখা উচিত, সেখানে শিল্প সংস্থা ও তার কর্তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। শিল্পের ইনসেন্টিভ বা উৎসাহমূলক আর্থিক সাহায্য ও বিদ্যুতের দামও প্রতিযোগিতার বাজারে যথাযথ হবে, আশা আমাদের।
ভারত চেম্বার অব কমার্সের সচিব অভীক রায়ের কথায়, শিল্পের কথা বলতে গিয়ে আমরা সবার আগে বলব পরিকাঠামোর কথা। যে রাজ্যে রাস্তা, জল, বিদ্যুতের মতো ন্যূনতম পরিকাঠামো যত ভালো, সেই রাজ্য তত বেশি লগ্নি আকর্ষণ করতে পারে। তবে শুধু ভালো রাস্তাঘাট করলেই হবে না, সেগুলির রক্ষণবেক্ষণ যাতে হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। একবার রাস্তা তৈরির পর যেন তা অন্তত ৫ বছর ঠিকঠাক থাকে, সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। ইজ অব ডুইং বিজনেস নিয়ে ইদানীং যথেষ্ট কথা হয়েছে। পাশাপশি শিল্পের পথ সহজ করার জন্য সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেমের কথাও আসে।
বাস্তব হল, শিল্পের প্রশাসনিক ছাড়পত্র নিতে সিঙ্গল উইন্ডো বাস্তবে তেমন সুবিধা করে দেয় না। সত্যিই যাতে প্রশাসনিক ছাড়পত্র দ্রুত মেলে, তা চাই আমরা। এরাজ্যে বরাবরই কেন্দ্রের সঙ্গে বিরোধ থাকে। আমাদের আশা, শিল্পের জন্য ভরতুকি ও শিল্পের সাহায্যের প্রশ্নে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় থাকবে। তাতে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে চিকিৎসা বা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের মতো ব্যবসায়িক ক্ষেত্রগুলি। আমাদের আশা, সরকার শুধু মুষ্টিমেয় কয়েকজন শিল্পপতির সঙ্গে নয়, সব শিল্পের সঙ্গেই সমানভাবে সম্পর্ক বজায় রেখে চলবে এবং শিল্পমহল তাদের কথা নিয়মিত জানাতে পারবে সরকারকে। শিল্প ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক মত আদানপ্রদান অত্যন্ত জরুরি।