Bartaman Logo
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শিল্পনীতি: বার্তা শমীক-তাপসের কটাক্ষ মমতার দিল্লি সফর নিয়েও

শিল্পনীতি নিয়ে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর নিয়ে কটাক্ষ করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য

শিল্পনীতি: বার্তা শমীক-তাপসের কটাক্ষ মমতার দিল্লি সফর নিয়েও
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: শিল্পনীতি নিয়ে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর নিয়ে কটাক্ষ করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শনিবার ডোমজুড়ের রাজাপুরে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী একটি সংস্থার নতুন কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে রাজ্য বিজেপির সভাপতির সঙ্গে আসেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় ও অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। ২ লক্ষ ৮৫ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে তৈরি হবে কারখানাটি। এর ফলে ডোমজুড় সহ গ্রামীণ হাওড়ায় কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ বাড়বে বলে আশা। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিলেন বিধায়ক অনুপম ঘোষ, সজল ঘোষ সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। এদিনই ডানকুনিতে একটি কারখানার অনুষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়নের নামে তোলাবাজি করলে ফের সংশ্লিষ্ট বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি। তাঁর কথায়, বিজেপির কোনো ট্রেড ইউনিয়ন নেই। কারখানা থেকে চাঁদা তোলার কোনো সিস্টেম নেই বিজেপিতে।  ডানকুনিতে কিছু মানুষ বিক্ষিপ্তভাবে এই ধরনের কাজ করছে। তাদের সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। যদি বিজেপি সেজে এলাকার দায়িত্ব কেউ নিয়ে থাকে, তাহলে সেখানে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। 

Advertisement

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে মমতার দিল্লি যাওয়া নিয়ে ডোমজুড়ের অনুষ্ঠানে শমীক বলেন, ‘ওঁনার যা কাজকর্ম উনি করুন। উনি এতদিন এখানে যা করে গিয়েছেন, সেটার ঝাড়াই-মোছাই করছি।’ শিল্পস্থাপন প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, ‘৪৯ বছরের শিল্পায়নের খরা কাটিয়ে রাজ্যে বিনিয়োগ আসছে। কর্মসংস্থানও বাড়বে। এক বছর অপেক্ষা করুন, শিল্পক্ষেত্রের চেহারা বদলে যাবে।’ শিল্পে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের পক্ষেও সওয়াল করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, ‘সরকারে থাকা দলের বিধায়ক ও মন্ত্রীদের এই ধরনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, দলের অন্য নেতা-কর্মীদের ডাকার ক্ষেত্রে নিষেধ থাকা উচিত।’ তাঁর মতে, ‘দল ও প্রশাসনের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে। শিল্পকে রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, ‘সিন্ডিকেট বন্ধ হয়েছে। শিল্পপতিরা নতুন শিল্পনীতির ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।’
অন্যদিকে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, ‘৪৯ বছর ধরে অবহেলিত একটি ক্ষেত্রকে পুনর্গঠন করা কঠিন। শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি ও পরিবেশ ফেরানো গিয়েছে। নতুন শিল্পনীতি তৈরির কাজ চলছে। সেটি তৈরি হয়ে গেলে শিল্পকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’ বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থানকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তাপস। পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনতেও শিল্প প্রয়োজন বলে তাঁর দাবি। ডোমজুড়-জগৎবল্লভপুরে বহু ছোট ও মাঝারি শিল্প রয়েছে। সেগুলির সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে এমএসএমই দপ্তরের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য স্থানীয় বিধায়ককে বলা হয়েছে। নিজেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলে জানান শিল্পমন্ত্রী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ