Bartaman Logo
৬ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পড়ে শিল্পতালুকের জমি, দিন বদলের আশায় রেজিনগরবাসী

১২নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে রেজিনগরে ঢুকতেই বাঁদিকে একটি বিশাল জায়গা চোখে পড়ে। ঝোপজঙ্গলের মধ্যে সাইনবোর্ডে লেখা ‘রেজিনগর শিল্পতালুক’।

পড়ে শিল্পতালুকের জমি, দিন বদলের আশায় রেজিনগরবাসী
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ১২নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে রেজিনগরে ঢুকতেই বাঁদিকে একটি বিশাল জায়গা চোখে পড়ে। ঝোপজঙ্গলের মধ্যে সাইনবোর্ডে লেখা ‘রেজিনগর শিল্পতালুক’। দু’টি লোহার গেটে মরচে ধরেছে। ১৮৩একর জমির উপর এই শিল্পতালুকে ‘ই-বাস’ কারখানা, বহুজাতিক সংস্থার ওয়্যারহাউস গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু, গত ১৬বছরে দু’একটি ছোটোখাটো বিল্ডিং ও একটি ছোট স্টিল কারখানা ছাড়া কিছুই হয়নি। রেজিনগরের উপনির্বাচনে এই শিল্পতালুক এবার অন্যতম ইস্যু।

Advertisement

বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি শাখারভ সরকার এখানে লড়াই করছেন। শিল্পতালুকে কারখানা গড়াকে ইস্যু করছে শাসকদল। বিজেপিকে ভোট দিলে দেড় বছরের মধ্যে কারখানার চিমনি থেকে ধোঁয়া বের হবে, একথা বলে ভোট প্রার্থনা করেছেন প্রার্থী শাখারভ ও খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ৭০শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে মুসলিমরা বিজেপির পাশে থাকে কি না, তা অবশ্য সময় বলবে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে মূলত হুমায়ুনের বাবরি মসজিদ ইস্যুর সঙ্গে তৃণমূলের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের লড়াই হয়েছিল। সেখানে বাবরি মসজিদ ইস্যুতে হুমায়ুনের দিকেই সমর্থন দিয়েছিলেন বেশিরভাগ ভোটার। জাতীয় সড়কের পাশে সেই মসজিদ এখন নির্মীয়মাণ। তবে শেষ পর্যন্ত মসজিদ হবে কি না, তা নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যেও সংশয় আছে। বিধানসভা নির্বাচনের চারমাস আগে মসজিদ তৈরির ডাক দিয়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবির। তার জেরে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হন। তৈরি করেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। রেজিনগর তথা জেলার ভোট মানচিত্রে তিনি বড় ফ্যাক্টর হয়ে ওঠেন। ভোট মিটলেও বাবরি মসজিদের কাজ সেভাবে এগোয়নি। ফলে এখন সেই হাওয়া তেমন নেই। হুমায়ুন অবশ্য উপনির্বাচনেও সেই বাবরি মসজিদেই ভরসা রাখতে চাইছেন। নিজের ছেড়ে দেওয়া আসনে এবার তাঁর ছেলে প্রার্থী।
রেজিনগরের নির্বাচনে স্থানীয় ইস্যুর অভাব নেই। নদীর উপর সেতু, রাস্তাঘাট, পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি কলেজের দাবিও জানিয়ে আসছেন এলাকার বাসিন্দারা। ওই সমস্ত ইস্যুকে হাতিয়ার করেই বিরোধীরা ভোট চাইছে। তবে, তৃণমূল শিবির দু’ভাগে বিভক্ত। মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীর কাছে রেজিনগর চেনা মাঠ। ২০১৩-২৬ পর্যন্ত তিনিই এখানকার বিধায়ক ছিলেন। গণতান্ত্রিক তৃণমূলের তরফে পাশের কেন্দ্র নওদা থেকে তুলে এনে সফিউজ্জামান শেখকে রেজিনগরে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি আবু তাহের খানের ভাগ্নে তথা জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ। দাপিয়ে নির্বাচনি প্রচার সেরেছেন। কংগ্রেসের তরফে জেলা পরিষদের বিরোধী মুখ আবদুল্লাহিল কাফিও কয়েকদিনের প্রচারে ভালো সাড়া পেয়েছেন। সিপিএমের মিছিলেও আইনজীবী প্রার্থী মহম্মদ সাইদের সঙ্গে লাল ঝান্ডা হাতে ভিড় দেখা গিয়েছে।
রেজিনগরের বিধায়ক বেছে নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার সকাল থেকে ভোটাররা লাইনে দাঁড়াবেন। দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। এসআইআর ও অন্নপূর্ণা যোজনা। এসআইআরে অনেকের পরিবারের সদস্যের নাম বাদ পড়েছে। সেই ক্ষোভের ফসল কে তুলবে, তা সময় বলবে। এই কেন্দ্রে ৭০হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা করে পেয়েছেন। পাশাপাশি অনেকেই প্রকল্পের সুবিধা পাননি। ফলে তাঁদের ভোটও এই উপনির্বাচনের ফলাফলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ