নয়াদিল্লি: ১৯৭৫ সাল। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। ভারতীয় গণতন্ত্রের সেই কালো অধ্যায় নিয়ে বারবার বিজেপির তোপের মুখে পড়েছে কংগ্রেস। এবার এই ইস্যুতে বিস্ফোরক দাবি করলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। জানালেন, জরুরি অবস্থায় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হয়েছিল ঠিকই। তবে পুরোটাই করা হয়েছিল সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনে। এই পদক্ষেপ যে ‘ভুল’ ছিল, পরে তা বুঝতে পেরেছিলেন ইন্দিরা। পরিস্থিতি সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টাও করেছিলেন। এই ঘটনার জন্য একা সঞ্জয় গান্ধীকেও দায়ী করতে চাননি সোনিয়া। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেস নেত্রীকে ফের আক্রমণ করেছে পদ্ম শিবির।
আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হচ্ছে সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী ‘বিলঙ্গিং: আ জার্নি অব লাভ’। তার আগে সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন কংগ্রেস নেত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি জানি অনেকেই এটা শুনে হেসে উঠবেন। তবে ইন্দিরা গান্ধী কখনই জরুরি অবস্থা নিয়ে স্বস্তিতে ছিলেন না। ইমার্জেন্সি তাঁর অন্যতম ভুল ছিল। আমার মনে হয়, ইন্দিরা গান্ধীও সেটা বুঝতে পেরেছিলেন।’ এখানেই না থেমে তাঁর বক্তব্য, ‘জরুরি অবস্থার পর আমি বুঝতে পারি, ঘটনাটি কতটা ভয়ঙ্কর ছিল। গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হয়েছিল। তবে পুরোটাই সাংবিধানিক পদ্ধতিতে করা হয়েছিল।’ জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ উঠলেই ইন্দিরা-পুত্র সঞ্জয় গান্ধীর কথা উঠে আসে। এবিষয়ে সোনিয়া বলেন, ‘জরুরি অবস্থার সঙ্গে সঞ্জয় গান্ধীর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবে উনি একা এর জন্য দায়ী নন। ইন্দিরা গান্ধীর উপর প্রবীণ নেতারা চাপ সৃষ্টি করছিলেন। বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। আমলা ও সেনাবাহিনীকে নির্দেশ না মানার ডাক দেওয়া হচ্ছিল। শুধুমাত্র রাজীব এবিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করতেন। শেষ পর্যন্ত ইন্দিরা নিজের প্রজ্ঞা দিয়ে পরিস্থিতি বুঝতে পারেন এবং তা ঠিক করার উদ্যোগ নেন। ১৯৭৭ সালের মার্চে ভোট করাতে বলেন। পরে তিনি নিজেই জরুরি অবস্থায় বাড়াবাড়ির জন্য অনুতপ্ত হয়েছিলেন। প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছিলেন।’ কথার ফাঁকে স্বামী রাজীব গান্ধীর প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথাও জানান সোনিয়া। তাঁর কথায়, ‘রাজীব বলেছিলেন, সকলে ওঁকেই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চায়। তখন মনে হচ্ছিল, আমার হৃদযন্ত্রে মধ্যে কেউ ছুরি বসিয়ে দিয়েছে।’
বিষয়টি নিয়ে সোনিয়াকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। পদ্ম নেতা তরুণ চুঘের তোপ, ‘বিজেপি আমলে সনাতনীদের উত্থান হজম করতে পারছেন না সোনিয়া গান্ধী। ইতালির চশমা খুলে রাখলেই ভারতকে স্পষ্ট দেখতে পারবেন। বাটলা হাউসে এনকাউন্টারে জঙ্গি মৃত্যুর ঘটনায় আপনি চোখের জল ফেলেছিলেন কেন? সেনা শহিদ হলে কোনো বক্তব্য রাখেননি কেন? দেশের মানুষ এসব জানতে চান।’ বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারির বক্তব্য, ‘ইন্দিরা গান্ধীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন সোনিয়া। তবে এই প্রচার চালিয়ে সত্যকে লুকিয়ে রাখা যাবে না।’



