রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: কয়েক মাসের অপেক্ষা। আগামী জুলাই মাস থেকেই ভারতের সঙ্গে জুড়ছে ইউরোপ। আরও নির্দিষ্ট করে বললে ম্যাঞ্চেস্টার ও আমস্টারডাম। সৌজন্যে—ভারতের সর্ববৃহৎ এয়ারলাইন্স ইন্ডিগো। এর মধ্যে দিয়েই সূচনা হবে ইন্ডিগোর প্রথম দীর্ঘ দূরত্বের পরিষেবার। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ব্রিটেনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ব্যবসায়ী মহল। তাঁদের দাবি, এর ফলে আয় বাড়বে। যা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মযজ্ঞে।
ইন্ডিগোর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডস। তিনি বলেন, ‘ম্যাঞ্চেস্টারের এমপি ও ব্রিটেনের শিল্পমন্ত্রী হিসেবে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে গত মাসেই আমি দিল্লিতে গিয়েছিলাম। ব্যবসায়ী ও পর্যটক—উভয় মহলই যে এই বিমান পরিষেবার পদক্ষেপকে স্বাগত জানাবেন, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত। ভারত ও ব্রিটেনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত। এই পরিষেবার মধ্যে দিয়ে তা আরও মজবুত হবে।’ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ম্যাঞ্চেস্টার ইন্ডিয়া পার্টনারশিপও (এমআইপি)। সংস্থার চেয়ার সাইমন আরোরা বলেন, ‘ভারত ও ম্যাঞ্চেস্টারের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করার বিষয়টি বহু বছর ধরে সচেষ্ট ছিল এমআইপি। কারণ, আমরা জানি এই যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সুযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’
আজ, শনিবার ম্যাঞ্চেস্টারে ভারতীয় কনস্যুলেটের উদ্বোধন। এর ফলে আর পাসপোর্ট সংক্রান্ত পরিষেবার জন্য ম্যানচেস্টার ও সংলগ্ন এলাকার মানুষজনকে বার্মিংহামে যেতে হবে না। তার আগেই সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত তথ্যাভিজ্ঞ মহলের। স্টকপোর্টের এমপি তথা অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ ফর ব্রিটিশ হিন্দুজের অফিসার নব্যেন্দু মিশ্র বলেন, ‘এই ঘোষণার ফলে ম্যাঞ্চেস্টারই বর্তমানে একমাত্র শহর, যার সঙ্গে ভারতের সরাসরি বিমান যোগাযোগ থাকবে। ম্যাঞ্চেস্টার বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙা হবে।’ ম্যাঞ্চেস্টার বিমানবন্দরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস উডরফ বলেন, ‘সারা বিশ্বের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ স্থাপনই ম্যাঞ্চেস্টার বিমানবন্দরের প্রধান লক্ষ্য। এর মধ্যে দিয়ে মানুষ যেমন নতুন নতুন জায়গায় বেড়াতে যেতে পারবেন, তেমনই বাড়বে ব্যবসাও।’ আমস্টারডামের পাশাপাশি ইন্ডিগো পরিষেবা দেওয়ার জন্য ম্যাঞ্চেস্টারকে বেছে নেওয়ায় তিনি যে গর্বিত, তাও জানাতে ভোলেননি ক্রিস উডরফ। ম্যাঞ্চেস্টারে ইন্ডিগোর পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত ব্রিটেন-ভারত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার পক্ষে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। উল্লেখ্য, আগামী গ্রীষ্মে ক্রিকেট টেস্ট সিরিজ উপলক্ষ্যে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও ইংল্যান্ড। তার আগে এই পরিষেবা চালুর বিষয়টি ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বড় সুখবর বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।