Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ইংল্যান্ডে ভারতীয়দের সেরা ছয় ইনিংস

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের সিরিজ শুরু ২০ জুন। তার আগে ফিরে দেখা টেমসের পাড়ে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সেরা ছয় ইনিংসকে।

ইংল্যান্ডে ভারতীয়দের সেরা ছয় ইনিংস
  • ১৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের সিরিজ শুরু ২০ জুন। তার আগে ফিরে দেখা টেমসের পাড়ে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সেরা ছয় ইনিংসকে।

Advertisement

সুনীল গাভাসকরের ২২১ (ওভাল, ১৯৭৯): সিরিজের চতুর্থ টেস্টে জেতার জন্য ভারতের দরকার ছিল ৪৩৮। ইয়ান বথাম, বব উইলিস সমৃদ্ধ শক্তিশালী ইংল্যান্ড বোলিং লাইন আপের বিরুদ্ধে সফরকারী দল দ্রুত গুটিয়ে যাবে, এমনই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু ওপেনিংয়ে চেতন চৌহানের সঙ্গে গাভাসকর যোগ করেন ২১৩। দ্বিতীয় উইকেটে দিলীপ বেঙ্গসরকরের সঙ্গে জুটিতে ওঠে ১৫৩। গাভাসকর শেষ পর্যন্ত ৪৪৩ বল খেলে করেন ২২১। তাতে ছিল ২১টি চার। ভারত আট উইকেটে ৪২৯ তোলে। ড্র হয় ম্যাচ।


দিলীপ বেঙ্গসরকরের অপরাজিত ১০২ (লিডস, ১৯৮৬): ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। প্রথম ইনিংসে ‘কর্ণেল’ করেছিলেন ৬১। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ২১৬ বলের ইনিংসে মারেন দশটি বাউন্ডারি। একসময় ৩৫ রানে চার উইকেট পড়ে গিয়েছিল ভারতের। সেখান থেকে বেঙ্গসরকরের ইনিংসই জয়ের পথ গড়ে দেয়। তাঁর শতরানের সুবাদেই ভারত তোলে ২৩৭। ইংল্যান্ডের সামনে ৪০৮ রানের টার্গেট দেয় কপিল দেবের দল। হোমটিম হারে ২৭৯ রানে। উল্লেখ্য, ঐতিহ্যশালী লর্ডসে তিন টেস্টের প্রতিটিতেই সেঞ্চুরি রয়েছে বেঙ্গসরকরের।


শচীন তেন্ডুলকরের অপরাজিত ১১৯ (ওল্ড ট্র্যাফোর্ড, ১৯৯০): মাত্র ১৭ বছর বয়সে কেরিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন মাস্টার ব্লাস্টার, যা ক্রিকেট মহলে আলোড়ন তোলে। ৪০৮ রানের টার্গেটের সামনে ভারত যখন ১০৯-৪, ক্রিজে যান শচীন। ১৮৯ বলের ইনিংসে মুম্বইকর মারেন ১৭টি বাউন্ডারি। মন্থরভাবে শুরু করে ক্রমশ হাত খোলেন তিনি। ছয় নম্বরে নামা শচীনের দাপটেই ছয় উইকেটে ৩৪৩ রানে থামে ভারত। ড্র হয় টেস্ট। মজা করে ধারাভাষ্যকার ডেভিড লয়েড তেন্ডুলকরকে ‘বয় অব দ্য ম্যাচ’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।


সৌরভ গাঙ্গুলির ১৩১ (লর্ডস, ১৯৯৬): নভজ্যোৎ সিং সিধু রাগারাগি করে দেশে ফিরে না এলে হয়তো লর্ডসে টেস্ট অভিষেকই হতো না সৌরভের। সেই মঞ্চকে বেহালার বাঁ-হাতি স্মরণীয় করে তোলেন দুরন্ত শতরানে। তিন নম্বরে নেমে ৩০১ বল খেলে তিনি করেন ১৩১। রাজকীয় ইনিংসে মারেন ২০টি বাউন্ডারি। সৌরভ এবং আর এক অভিষেককারী, রাহুল দ্রাবিড়ের (৯৫) সুবাদে ভারত তোলে ৪২৯। ড্র হয় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। বিশ্বক্রিকেট পায় দুই নতুন তারকাকে। পরের টেস্টেও শতরান করেন সৌরভ। হন সিরিজের সেরাও।


রাহুল দ্রাবিড়ের ১৪৮ (লিডস, ২০০২): প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। ১৫ রানের মধ্যে ফেরেন বীরেন্দ্র সেওয়াগ। দ্বিতীয় উইকেটে সঞ্জয় বাঙ্গারের সঙ্গে ১৭০ রান যোগ করেন রাহুল দ্রাবিড়। সেটাই বড় ইনিংসের ভিত গড়ে দেয়। মিস্টার ডিপেন্ডবল শেষ পর্যন্ত ৩০৭ বল খেলে করেন ১৪৮। তাতে ছিল ২৩টি বাউন্ডারি। দ্রাবিড় ছাড়াও শতরান পান শচীন (১৯৩) ও সৌরভ (১২৮)। ইংল্যান্ড হারে ইনিংস ও ৪৬ রানে। এই সিরিজে তিনটি সেঞ্চুরি হাঁকান দ্রাবিড়।


বিরাট কোহলির ১৪৯ (এজবাস্টন, ২০১৮): চার বছর আগে অ্যান্ডারসনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন কোহলি। সেজন্যই এজবাস্টনে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর ১৪৯ রানের তাৎপর্যই আলাদা। ৫৪-২ অবস্থায় ক্রিজে গিয়ে ১৪৯ করেন। মারেন ২২টি চার ও একটি ছক্কা। বিদেশে কোহলির সেরা টেস্ট সেঞ্চুরির মধ্যে পড়ে এই ইনিংস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ