সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: মহাকাশ স্পেস সেন্টারে টানা ১৮ দিন কাটিয়ে ঘরে ফিরেছেন শুভাংশু শুক্লা। তার আগে ১৯৮৪ সালে প্রথম ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন রাকেশ শর্মা। তাঁর নানা অভিজ্ঞতা মহাকাশ গবেষণাকে সমৃদ্ধ করেছে। শুভাংশুর অভিজ্ঞতাও আগামীদিনে কাজে লাগবে। তবে, ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র (ইসরো) চাইছে, আর অন্যের মুখাপেক্ষী নয়, অন্তরীক্ষে এবার নিজেদের স্পেস সেন্টার গড়তে। গতকাল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নরায়াণন। অনুষ্ঠান শেষে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ইচ্ছের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘২০৩৫ সালের মধ্যেই মহাকাশে স্পেস সেন্টার তৈরির কাজ সম্পুর্ণ করবে ভারত। পাঁচটি মডিউলে স্পেস সেন্টারটি তৈরি হবে। প্রথম মডিউলটি তৈরি হয়ে যাবে ২০২৮ সালের মধ্যে।’ একই সঙ্গে ইসরো কর্তার সংযোজন, ‘চন্দ্রযান-৪ অভিযানেরও প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া চন্দ্রযান-৫ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানের সঙ্গে যৌথ ভাবে অভিযান হবে। আগামীদিনে মহাকাশ বিজ্ঞানে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। বিভিন্ন স্যাটেলাইটও প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।’
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সবকিছুকে ছাপিয়ে সবার নজর ছিল ইসরোর চেয়ারম্যানের উপর। ছাত্রছাত্রীদের তীব্র কৌতূহল ছিল ইসরো কীভাবে কাজ করে। কিভাবে স্পেস সেন্টার তৈরি হয়, সেখানে মহাকাশচারীরা কিভাবে থাকেন? সেইসব কৌতূহল যতটা সম্ভব মিটিয়েছেন নারায়ণন। ইসরোরর নানা সাফল্যের কথা তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজ্ঞানী পদ্মনাভন বলরামও পড়ুয়াদের মহাকাশ বিজ্ঞান সম্পর্কে উৎসাহিত করেছেন। বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে বাংলার ভূমিকার প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘এক সময় এই বাংলা বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। আগামী দিনেও এখানকার পড়ুয়ারা বিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য ছাপ রাখবেন। এমনটাই আশা করা যায়। আবার আগের মতোই বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। অভিভাবকরা ছেলে-মেয়েদের অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান।’
ইসরোর চেয়ারম্যান মহাকাশ গবেষণার কাজে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করতে বলেন, ‘হিউম্যানয়েড মিশনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণ করা হবে প্রথম মানব মহাকাশ যান। ভারতের নিজস্ব স্পেস সেন্টার তৈরি হলে মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। মহাকাশ প্রযুক্তিকে মানব কল্যাণে ব্যবহার করায় ইসরোর মুখ্য উদ্দেশ্য।’ তিনি বলেন, ‘৫৫টি মহাকাশ যান নিজস্ব কক্ষপথে সক্রিয় হয়ে কাজ করে চলছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে সংখ্যাটা আরও অনেক বাড়বে। দেশীয় প্রযুক্তির উপর ভর করেই সাফল্য আসবে। ইতিমধ্যেই আমাদের স্পেস সেন্টার তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। তা শেষ হতে কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। তবে, পড়ুয়াদের মধ্যে এখন থেকেই উৎসাহ দেখে আমারও অনুপ্রাণিত।’