মুম্বই: ২০১০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। পাশে দাঁড়িয়ে দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও সোনিয়া গান্ধী। গোলাপি শাড়িতে হাসিমুখে দেশের প্রথম আধার কার্ড গ্রহণ করছিলেন রঞ্জনা সোনাওয়ানে। সে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবি। সেদিনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মহারাষ্ট্রের নন্দুরবার জেলার টেম্ভালি গ্রামের রঞ্জনা ভেবেছিলেন এ তো পরম সৌভাগ্য। দেশের প্রথম আধার কার্ড প্রাপক তিনি। শীঘ্রই সহজে সমস্ত পরিষেবা পাওয়া যাবে। কিন্তু ১৪ বছর পরও সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত সেদিনের ‘সরকারি প্রচারের মুখ’। কারণ তাঁর আধার নম্বর অন্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত। তাই রঞ্জনার কাছে কোনও সরকারি প্রকল্পের টাকাই আসে না। মহিলার দাবি, বারবার সরকারি দপ্তরে চক্কর কেটেও কোনও লাভ হয়নি। আপাতত দিনমজুরি করেই সংসার চালাতে হচ্ছে।
আধার কার্ড আছে? লিঙ্ক করিয়েছেন? আজকাল সরকারি পরিষেবার আবেদন জানাতে গেলে টেবিলের ওপার থেকে চশমার উপর দিয়ে এমন সব প্রশ্ন ধেয়ে আসে। কেউ কেউ ঠাট্টার সুরে বলে ওঠেন, আর কিছু থাক না থাক, আধার ছাড়া কিন্তু গতি নেই। বর্তমানে বিজেপি সরকারের জমানায় আবার গোরু-মানুষ সবাই ‘আধার সূত্রে’ই বাঁধা। আর সেই জায়গায় রঞ্জনা সোনাওয়ানের এমন দশা আদতে সরকারের গাফিলতির উপরই একের পর এক প্রশ্ন তুলেছে। রঞ্জনার কথায়, ‘সরকারি আধিকারিকরা বলেন টাকা চলে গিয়েছে। তাঁরা কাগজপত্রও দেখান। কিন্তু আমার কাছে টাকা আসে না। কারণ আমার আধার নম্বর অন্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত। এখন লড়কি বহিন প্রকল্পে মাসে ১৫০০ টাকা করে পাওয়া যায়। তাও মেলেনি। প্রতিবার দপ্তরে দপ্তরে গিয়ে জানাই। সবাই বলেন - খুব তাড়াতাড়ি সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু কিছুই হয় না।’
তাহলে সংসার চলে কীভাবে? বর্তমানে রঞ্জনার পরিবারের বার্ষিক আয় ৪০ হাজার টাকা। নিজে দিনমজুরি করেন। আর স্বামী খেলনা ফেরি করে বেড়ান। তিন ছেলে রয়েছে। একজন কাজ করে, তবে বাকি দু’জন পড়াশোনা করছে। তাই পাঁচ পেটের ভাত জোগাড় করতে রোজ লড়াই করতে হয়।
কেটে গিয়েছে বহুদিন। তাই সরকারের উপর আর ভরসা নেই রঞ্জনার। তাঁর কথায়, ‘সরকারের কাছ থেকে আর তেমন কোনও আশা নেই। ছেলেরা বড় হয়েছে। কাজ করছে। আশা করি একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।’ কথাগুলো বলতে বলতে শাড়ির আঁচল দিয়ে সেদিনের ফ্রেমে বাঁধানো ছবিটি আরও একবার পরিষ্কার করছিলেন তিনি।