মেলবোর্ন: জমজমাট লড়াই উপভোগের আশায় কানায় কানায় ভরে গিয়েছিল এমসিজি’র গ্যালারি। সরকারি হিসেবে শুক্রবারের দর্শক সংখ্যা ৮২,৪৩৮। কিন্তু ক্রিকেটপ্রেমীদের আশার গুড়ে বালি। ব্যাট-বলের ধুন্ধুমার লড়াই নয়, তাঁদের বাড়ি ফিরতে হল একপেশে ম্যাচ দেখেই। চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের জেরে অসহায় আত্মসমর্পন সূর্যকুমার যাদব ব্রিগেডের। অস্ট্রেলিয়া জিতল ৪ উইকেটে। ২০ বল বাকি থাকতেই ১২৬ রানের টার্গেটে পৌঁছে যায় মিচেল মার্শের দল। একই সঙ্গে পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল হোমটিম। সিরিজের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গিয়েছিল। রবিবার হোবার্টে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ।
তার আগে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা মেরামত করা জরুরি কোচ গৌতম গম্ভীরের। এদিন তো অভিষেক শর্মাকে বাদ দিলে টিম ইন্ডিয়ার তারকাখচিত লাইন-আপ সুপার ফ্লপ। শুভমান গিল (৫), সঞ্জু স্যামসন (২), ক্যাপ্টেন সূর্য (১), তিলক ভার্মা (০), অক্ষর প্যাটেল (৭), শিবম দুবেরা (৪) দু’অঙ্কের রানে পৌঁছতে পারেননি। মূলত অভিষেকের কাঁধে ভর করে একশোর গণ্ডি টপকায় ভারতের স্কোর। প্রবল চাপের মুখেও ৩৭ বলে ৬৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন বাঁহাতি ওপেনার। তাঁর ইনিংসে রয়েছে আটটি চার ও দুটো ছক্কা। ৪৯ বলে পাঁচ উইকেট পড়ার পর হর্ষিত রানার সঙ্গে ৫৬ রান যোগ করেন অভিষেক। এই জুটিই ভদ্রস্থ করে ইনিংস। ৩৩ বলে ৩৫ করেন হর্ষিত। তবে বেশিরভাগ সময় নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকতে হয়েছিল অভিষেককে। ফলে ছন্দ কেটে যায় তাঁর। হর্ষিত ফেরার পর গড়ে ওঠেনি আর কোনও জুটি। তাৎপর্যের হল, ভারতের ইনিংসে অভিষেক ও হর্ষিত ছাড়া আর কেউ দশ পেরোননি। ম্যাচের সেরা জশ হ্যাজলউড (৪-০-১৩-৩) শুরুতেই ধাক্কা দিয়েছিলেন। তা আর কাটিয়ে ওঠা যায়নি। নাথান এলিস (২-২১) ও জেভিয়ার বার্টলেট (২-৩৯) মাঝপর্বে চাপ বজায় রাখেন। ফলে ১৮.৪ ওভারে দাঁড়ি পড়ে ভারতের ইনিংসে।
জবাবে শুরুটা দুর্দান্ত হয় অস্ট্রেলিয়ার। ওপেনিংয়ে ৫১ তুলে ফেলেন মিচেল মার্শ (৪৬) ও ট্রাভিস হেড (২৮)। বরুণ চক্রবর্তী (২-২৩) ও কুলদীপ যাদব (২-৪৫) মাঝেমধ্যে উইকেট নিলেও অজিদের চাপে ফেলা যায়নি। শেষপর্বে যশপ্রীত বুমরাহ (২-২৬) পরপর দু’বলে নেন উইকেট। তবে ততক্ষণে জয়ের দরজায় পৌঁছে গিয়েছিল আয়োজক দল (১২৬-৬)। পয়মন্ত মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এমন শোচনীয় হার কোচ গৌতম গম্ভীরের উদ্বেগ দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিল।