


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শশী থারুর কি বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে? ক্রমেই সংশয় এবং জল্পনা বাড়ছে। বিগত কয়েকমাস ধরে বিভিন্ন ঘটনাপরম্পরায় দেখা যাচ্ছে, থারুর ক্রমেই বিজেপি ও ভারত সরকারের কাছের মানুষ হয়ে উঠছেন। তিরুবনন্তপুরমের সাংসদের একের পর এক সরকার-বান্ধব বিবৃতি এই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। বিজেপি তথা মোদি সরকারকেও আজকাল শশী থারুর সম্পর্কে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব এবং ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর বার্তা দিতে দেখা যাচ্ছে। তারই সর্বশেষ ইস্যু হল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা। অপারেশন সিন্দুরের পর পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনৈতিকভাবেও কোণঠাসা করতে তৎপর মোদি সরকার। পাকিস্তানের মদতেই যে সন্ত্রাসবাদ অনেক বেশি পরিপুষ্ট, এই বার্তা জোরালোভাবে দিতে দেশে দেশে সর্বদলীয় প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। দলমত নির্বিশেষে মোট সাতজন সাংসদকে দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিধি দলের দায়িত্ব। সেই তালিকা তৈরি হতেই ফের বিতর্কের ভরকেন্দ্রে থারুর। শুক্রবারই জানা গিয়েছে তাঁর নাম রয়েছে সেখানে। কিন্তু কার সুপারিশে? কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাঁর নাম যে সরকারের কাছে পাঠানো হয়নি, শুক্রবার সকালেই তা স্পষ্ট করে দেন দলের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ। তাতে বিতর্ক এবং থারুরের দলত্যাগের জল্পনা আরও বেড়েছে।
থারুর ছাড়াও প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকছেন বিজেপির রবিশঙ্কর প্রসাদ, বৈজয়ন্ত পান্ডা, জেডিইউ-র সঞ্জয় কুমার ঝা, ডিএমকের কানিমোঝি, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে এবং একনাথপন্থী শিবসেনার শ্রীকান্ত একনাথ সিন্ধে (একনাথ সিন্ধের ছেলে)। প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা দেশে প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দেবেন। উল্লেখ্য, জেডিইউ-র সঞ্জয় কুমার ঝা’র দলে রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান।
যদিও প্রতিনিধি দলের ওই তালিকায় থারুরের নাম থাকা নিয়েই যাবতীয় বিতর্ক! সম্প্রতি কেরলে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা গিয়েছে তাঁকে। দু’জনের আলাপচারিতা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে কেরল কংগ্রেস। কংগ্রেসের জন্য অস্বস্তিকর একাধিক বিবৃতি ও অবস্থান ঘোষণা করছেন থারুর—এই মর্মে তারা হাইকমান্ডের কাছে নালিশ জানিয়েছে। কিন্তু এবারের ঘটনা সেই নালিশকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। এদিন সকালে কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ জানান, কংগ্রেসের কাছে সরকার চারজন সদস্যের নাম চেয়েছিল। সেই অনুযায়ী আনন্দ শর্মা, গৌরব গগৈ, সৈয়দ নাসির হুসেন এবং রাজা ব্রারের নাম পাঠানো হয়েছে। রমেশের দেওয়া এই তালিকায় থারুরের নাম না থাকায় দিনভর নতুন করে শুরু হয় জল্পনা।
শশী থারুরও নীরব থাকেননি। দফায় দফায় মন্তব্য করেছেন আত্মপক্ষ সমর্থনে। কখনও বলেছেন, ‘দেশের স্বার্থে আমি কখনও সামান্যতম শর্ত আরোপ করব না।’ আবার কখনও দাবি করেছেন, ‘কংগ্রেসের কাছে সরকার নামের তালিকা চেয়েছে। কংগ্রেস কাদের নাম দিয়েছে এবং কেন দিয়েছে, এটা কংগ্রেসের অধিকার। কিন্তু আমাকে সরকার থেকেই মনোনীত করা হয়েছে। কারণ, আমি সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান। আর আমার একটি অতীত রেকর্ড আছে, রাষ্ট্রসঙ্ঘ থেকে বিদেশ মন্ত্রকে কাজ করার অভিজ্ঞতা। সুতরাং হয়তো আমাকে যোগ্য মনে করা হয়েছে।’
এদিকে, কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হয়েছে ক্ষোভ। থারুর কি পার্টির থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন? পরবর্তী পদক্ষেপ দলত্যাগ? এই প্রশ্ন ঘিরেই আলোড়ন জাতীয় রাজনীতির অন্দরে। বিজেপির অবশ্য সাফ জবাব, কংগ্রেস সব কিছুর মধ্যেই রাজনীতি খোঁজে কেন?