Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ওপারে ফিরতে সীমান্তে ভিড় ‘ভারতীয়’দের, আটক ৩০০

এই পর্বে ‘ভারতীয়’ সেজে থাকা বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারী’দের ঘরে ফেরার হিড়িক পড়েছে

ওপারে ফিরতে সীমান্তে ভিড় ‘ভারতীয়’দের, আটক ৩০০
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর। এই পর্বে ‘ভারতীয়’ সেজে থাকা বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারী’দের ঘরে ফেরার হিড়িক পড়েছে। দালাল ধরে চোরাপথে ওপার বাংলায় পালানোর চেষ্টা করছে তারা। এবার স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে উঠে এল এক অন‍্য ছবি। চোরাপথে ওপারে পৌঁছনোর আগেই ১৪৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের বিএসএফ জওয়ানরা আটক করল ৩০০ বাংলাদেশিকে। রবিবার রাত থেকে সীমান্তের কাছে লোটা-কম্বল আর ব্যাগ বোঝাই মালপত্র নিয়ে আটকে রয়েছে এই অনুপ্রবেশকারীরা। আটক হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে যেমন পুরুষ ও মহিলা রয়েছে, তেমনি রয়েছে শিশু। এসআইআরের ভয়ে এখন তারা ভারত ছেড়ে নিজের দেশে পালাতে চাইছে। সেই কারণেই ভারত-বাংলাদেশের হাকিমপুর সীমান্তে জড়ো হয়েছেন সকলে। বিএসএফের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এদের কারও বৈধ কাগজ কিংবা নথি নেই। তা অকপটে স্বীকারও করে নিয়েছে সবাই। নথিপত্র ছাড়াই  এদেশে থাকতে শুরু করে, তাও স্বীকার করেছে। তবে, বৈধ পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে যেতে দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে বিএসএফের তরফে। আপাতত তাদের আটক করেছেন সীমান্তরক্ষীরা। এবিষয়ে বিএসএফের ১৪৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের এক কর্তা জানিয়েছেন, জওয়ানরা যথেষ্ট সজাগ রয়েছেন। অবৈধভাবে কোনও অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে যেতে দেওয়া হবে না। কাউকে আসতেও দেওয়া হবে না। আটক হওয়া বাংলাদেশিরা বিরাটি, নিউটাউন, রাজারহাট, সল্টলেক, মধ্যমগ্রাম সহ আশপাশের এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, চলতি নভেম্বর মাসের গোড়াতেও হাকিমপুরের তারালি সীমান্তের চোরাপথ দিয়ে ওপারে যাওয়ার সময় আটক করা হয়েছিল ৯৪ জন বাংলাদেশিকে। 

Advertisement

বাংলায় এসআইআর চালু হতেই আতঙ্কিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে পালানোর চেষ্টা করছে। সোমবার সেই ছবিই দেখা গেল স্বরূপনগর থানার ভারত বাংলাদেশের হাকিমপুর সীমান্তে। আটকে থাকা বাংলাদেশি সাবিনা পারভিন বলেন, আমার বাড়ি সাতক্ষীরাতে। পেটের দায়ে অবৈধভাবে এদেশে এসেছিলাম। কোনও কাগজপত্র নেই আমার। এখন তাই সাতক্ষীরায় ফিরে যেতে চাইছি। সেই জন‍্যই অপেক্ষা করে রয়েছি। এদিকে মহম্মদ শাহরুখ বলেন, আমার বাড়ি বাংলাদেশের কুশুমান্ডি গ্রামে। বিরাটিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে সপরিবারে থাকতাম। এখন গ্রামে ফিরব। কোনো নথিপত্র নেই আমাদের। ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছিলাম। অনুপ্রবেশকারী সোনালি খাতুন থাকত চিনারপার্কে। তার কথায়, পেটের ভাত জোগাড়ে অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতাম। স্বামী কাজ করত একট দোকানে। এসআইআর হবে। তাই দেশে ফিরছি। অনুপ্রবেশকারী  নাজমুল হোসেন বলেন, কাজের খোঁজে কয়েকবছর আগে ভারতে ঢুকেছিলাম। আর ফিরে যাইনি। হঠাৎ এসআইআর চালু হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাইছি। এনিয়ে বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন,আমাদের কাছে আটক হওয়া অনুপ্রবেশকারী কাউকেই হস্তান্তর করেনি বিএসএফ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ