Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যন্ত্রণার কথা শোনাতে প্রার্থীদের অপেক্ষায় ওপারের ভারতীয়রা

রয়েছে নিজস্ব বাড়িঘর, পরিবার, ভিটেমাটি। কিন্তু বাড়ি ঢুকতেও অপেক্ষা করতে হয়  বিএসএফের অনুমতির। আরও বড় আক্ষেপ- সর্বদা ‘সন্দেহের’ চোখে দেখা হয় তাঁদের।

যন্ত্রণার কথা শোনাতে প্রার্থীদের অপেক্ষায় ওপারের ভারতীয়রা
  • ৩০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: রয়েছে নিজস্ব বাড়িঘর, পরিবার, ভিটেমাটি। কিন্তু বাড়ি ঢুকতেও অপেক্ষা করতে হয়  বিএসএফের অনুমতির। আরও বড় আক্ষেপ- সর্বদা ‘সন্দেহের’ চোখে দেখা হয় তাঁদের। মাঝে মধ্যে জোটে বাংলাদেশি তকমাও। দুঃখের কথা কাকে জানাবেন তাঁরা? তাই বালুরঘাট বিধানসভার হিলি সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারের গ্রামবাসীরা এখন তাকিয়ে কবে প্রার্থীরা প্রচারে আসেন সেদিকে।

Advertisement

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্তে অনেক গ্রাম রয়েছে, যেখানে কাঁটাতার নেই। কাঁটাতারের ওপারেও অনেক ভারতীয় গ্রাম। হিলি ব্লকজুড়ে এমন প্রায় ১৫টি সংসদ রয়েছে।
কাঁটাতারের ওপারের আগ্রা গ্রামের কানাই সরকার বলেন, রাতবিরেতে কেউ অসুস্থ হলে সহজে হাসপাতালে যেতে পারে না। আমাদের সবসময় সন্দেহ করা হয়। কেউ কেউ বাংলাদেশি তকমাও দেয়। কিন্তু সবাই তো পাচারের সঙ্গে যুক্ত নয়!
হাড়িপুকুর গ্রামের সুদর্শন চন্দ্র মণ্ডলের কথায়, মোবাইলেই প্রার্থীদের প্রচার দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু আমাদের এখানে কেউ আসেননি। প্রার্থীদের কাছে এবার আমাদের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরব। 
কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে সীমানা ঘেরার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের আপত্তি ও জমিজটের কারণে এখনও সব জায়গায় সমাধান হয়নি। হিলি সীমান্তের হাড়িপুকুর, উচা গোবিন্দপুর, অগ্রা, উজাল, শ্রীরামপুর, জামালপুর, রামকৃষ্ণপুর, চকবলরাম সহ এমন অনেক গ্রাম রয়েছে।
বিএসএফ সূত্রে খবর, পাচার আটকানো এবং নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যেক গ্রামবাসীকে তল্লাশির পর অনুমতি নিয়েই বাড়ি যেতে হয়। সকাল ছ’টা থেকে বিকেল পাঁচ কিংবা ছ’টা পর্যন্ত গ্রামে যাতায়াতের অনুমতি থাকে। এরপর কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিএসএফের সর্বোচ্চ কর্তার অনুমতির প্রয়োজন হয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও কয়েকগুণ। মহিলা জওয়ান সবসময় থাকেন না। ফলে দিনে যাতায়াতের সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। 
এব্যাপারে তৃণমূলের প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ বলেন, আমরা কাঁটাতারের ওপারের গ্রামে অবশ্যই যাব। ওই পাড়ের বাসিন্দাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। আমি সাংসদ থাকার সময় এতটা ছিল না। তৃণমূলের বিধায়ক হলে এসব আর থাকবে না।
বিজেপির প্রার্থী বিদ্যুৎ রায়ের কথায়, বিএসএফের অনুমতি এবং অন্য অনেক বিষয় রয়েছে। তাই আইন মেনে আমরা প্রচারে যাব। নিরাপত্তার জন্য কড়াকড়ি থাকে। গ্রামবাসীদের সমস্যা যাতে আর না থাকে, পরবর্তীতে দেখব। 
বামপ্রার্থী অর্ণব চৌধুরীর মন্তব্য, প্রার্থী হওয়ার আগেও ওই গ্রামগুলিতে যেতাম। সত্যিই সমস্যা রয়েছে ওপারের ভারতীয়দের। প্রশাসনকে আগেই সেকথা জানিয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ