নয়াদিল্লি: শুধু ব্যর্থ বললে কমই বলা হবে। করুণ নায়ারের বেহাল অবস্থা বোঝাতে চূড়ান্ত ব্যর্থ শব্দ দু’টিই যথোপযুক্ত। আরও যুতসই হবে তাঁর নামটাই যদি বিশেষণ হিসেবে প্রয়োগ করা যায়। হ্যাঁ, করুণ-দশা।
নয়াদিল্লি: শুধু ব্যর্থ বললে কমই বলা হবে। করুণ নায়ারের বেহাল অবস্থা বোঝাতে চূড়ান্ত ব্যর্থ শব্দ দু’টিই যথোপযুক্ত। আরও যুতসই হবে তাঁর নামটাই যদি বিশেষণ হিসেবে প্রয়োগ করা যায়। হ্যাঁ, করুণ-দশা।
অনেক কান্নাকাটির পর দীর্ঘ আট বছর বাদে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন। তাও আবার ৩৪ বছর বয়সে। মনে করা হচ্ছিল, ২২ গজে জান লড়িয়ে দেবেন। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের পাহাড় গড়া করুণের মধ্যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার রসদই নেই। তরুণদের মাঝে তিনি যথারীতি বৃদ্ধ। সেট হয়েও বড়লোকের বাউন্ডুলে ছেলের মতো বারবার উইকেট ছুড়ে দলকে ডুবিয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন টেস্টের ছয় ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ১৩১। গড় ২২। তিন নম্বরে নামা ব্যাটসম্যানের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন ব্যাটিং গায়ে জ্বালা ধরানোর জন্য যথেষ্ট। লর্ডস টেস্টই কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ হওয়া উচিত করুণের। ৩৪ বছর বয়সি অচল আধুলিকে আর কত চালানোর চেষ্টা করবেন কোচ গৌতম গম্ভীর!
দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের টার্গেট ছিল মাত্র ১৯৩। প্রথম ওভারে যশস্বী আউট হওয়ার পর করুণের ক্রিজে আগমন। বয়সের নিরিখে দলের অন্যতম সিনিয়র সদস্য হিসেবে তাঁর উচিত ছিল একদিক আগলে বাকিদের গাইড করা। কিন্তু কোথায় কী! ৩২ বল খেলার পরও কোন বল ভিতরে আসছে, আর কোনটা বাইরে বেরচ্ছে ধরতে পারলেন না। ব্রাইডন কার্সের অতি নিরীহ ডেলিভারি মিডল স্টাম্পে আসছে দেখেও অদ্ভুত জাজমেন্ট দিয়ে এলবিডব্লু হলেন। অ্যাকাডেমির বাচ্চারাও এমন ভুল করবে না!
এবার অন্তত নির্বাচকদের ভাবা উচিত, করুণের দেওয়ার কিছু নেই। বরং এখন আরও পরিষ্কার যে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে দেশের মাটিতে করা তাঁর ট্রিপল সেঞ্চুরিটা (অপরাজিত ৩০৩) ফ্লুকই ছিল। পরের তিন টেস্টে ৫৪ রান করে বাদ পড়াটা তাই মোটেও অবিচার ছিল না। জোফ্রা আর্চার-কার্সের মতো স্পিডস্টারের সামনে রীতিমতো সর্ষে ফুল দেখছেন। টেকনিক্যাল সমস্যা প্রকট। প্রাক্তন ক্রিকেটার দেবাং গান্ধীর মন্তব্য, ‘ও ক্রিজে এসেই উইকেট ছুড়ে দিচ্ছে এমনটা কিন্তু নয়। সেট হওয়ার পর আউট হওয়ার অর্থ টেকনিক্যাল সমস্যা হচ্ছে।’