রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন; ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে সুসংহত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চুক্তি (সিইটিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে এখনও এক বছরও হয়নি। শীঘ্রই তা আইনে পরিণত হতে চলেছে। আর এই বাণিজ্যচুক্তির আবহেই ব্রিটেনে ভারতীয় বিনিয়োগে জোয়ার এসেছে। গত এক বছরের নিরিখে ২০২৬ সালে বিলেতের মাটিতে ভারতীয় মালিকানাধীন কোম্পানির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ১ হাজার ৯১২। এই সংস্থাগুলির হাত ধরেই বিনিয়োগের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সামগ্রিক লগ্নির পরিমাণ হয়েছে ১০ হাজার ৫৭৭ কোটি পাউন্ড। ২০২৫ সালের তুলনায় ৭ হাজার ২১৪ কোটি পাউন্ড বেশি। স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলির সৌজন্যে ব্রিটেনে কর্মসংস্থানেও নতুন নজির তৈরি হয়েছে। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) ও ইন্ডিয়া গ্লোবাল ফোরামের (আইজিএফ) সহযোগিতায় গ্র্যান্ট থর্নটন ইউকে প্রকাশিত ইন্ডিয়া মিট ব্রিটেন ট্র্যাকারের সর্বশেষ সংস্করণে এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
এবারের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, এবছর ৬৬টি সংস্থার আয়বৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশ বা তার বেশি। ট্র্যাকার সংস্থাগুলির বৃদ্ধির গড় ৪২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬১ শতাংশ। ঘটনাচক্রে, ২০২৫ সালে ভারত-ব্রিটেন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বার্ষিক ১১.৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৭৪০ কোটি পাউন্ড। নেপথ্যে রয়েছে উৎপাদন, ক্লিন এনার্জি ও প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলি। বিনিয়োগে জোয়ারের হাত ধরেই ব্রিটেনে ভারতীয় সংস্থাগুলির মাধ্যমে সৃষ্টি কর্মসংস্থানের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ লক্ষ ৩ হাজার ৫৪৯। ২০২৫ সালের তুলনায় এটি ৬০.৬ শতাংশ বেশি। কর্মসংস্থান সৃষ্টির নিরিখে শীর্ষে রয়েছে টাটা মোটরসের মালিকানাধীন জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার অটোমোটিভ পিএলসি (৪৪ হাজার ১০৩)। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে টাটা স্টিল (১৯ হাজার ৬০০) ও বোরেল্লি টি হোল্ডিংস (৫ হাজার ৪০)। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ব্রিটেনে ভারতীয় ব্যবসার সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্য এখনও সেই লন্ডনই (৩৮ শতাংশ)। তবে বিলেতের মাটিতে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য পরিচালন খরচ বৃদ্ধ, আইন কানুনের জটিলতার মতো চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গ্র্যান্ট থর্নটন পার্টনার ও সাউথ এশিয়া বিজনেস হেড অনুজ চান্দে ওবিই বলেন, বাণিজ্য চুক্তি (সিইটিএ) স্বাক্ষরিত হওয়ার ফলে ভারত-ব্রিটেন ব্যবসার করিডর নজিরবিহীন বৃদ্ধি দেখতে চলেছে। দুই দেশের অর্থনীতিই তার সুলফ পাবে। দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে। সিআইআই-এর এক মুখপাত্র বলেন, সিইটিএ আইনে পরিণত হওয়ার পর ব্রিটেনে ভারতীয় সংস্থাগুলির আগ্রহ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।