দেবজিৎ ঘোষ: বড়দিনের অপেক্ষায় কলকাতা। আলো ঝলমলে পার্ক স্ট্রিট উৎসবে মাততে প্রস্তুত। তবে ফেস্টিভ সিজনেও ভারতীয় ফুটবলে ভরা অন্ধকার। আইএসএল অনিশ্চিত। আই লিগেও নেই স্পনসর। শুনলাম, মহিলা ফুটবলেও একই ছবি। টাকা ঢালতে কেউ রাজি নন। নতুন বছরের কাউন্টডাউন শুরু। কিন্তু ভারতীয় ফুটবল কী আলোর দিশা পাবে? প্রাক্তন ফুটবলার হিসাবে আশঙ্কিত। দুশ্চিন্তা মাথাচাড়া দিচ্ছে। বল না গড়ালে ফুটবলের ইকো সিস্টেম ধ্বংস হবে। কোচ, ফুটবলার, সাপোর্ট স্টাফ, ছাড়াও হাজার হাজার কর্মীর রুজি-রোজগার এই ফুটবল। তাঁদের ভবিষ্যৎ ঠিক কী? সবাই তো চাকরি করেন না। অথচ সংসার চালানো, লোন পরিশোধ, ইএমআই মেটানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতে হয়। তাদের তো রাতের ঘুম উবে যাওয়ার জোগাড়। জোড়হাত করে অনুরোধ জানাই, যে করে হোক ফুটবল ফেরান। অন্যথায় নিজের সন্তানকে ফুটবল মাঠে পাঠানোর আগে হাজারবার চিন্তা করবেন অভিভাবকরা। ফেডারেশনকে দোহাই, ইগো-স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ফুটবলকে বাঁচান। না হলে অন্তর্জলি যাত্রা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
গত ৮ ডিসেম্বর এফএসডিএলের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছে ফেডারেশনের। এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবলে কোনও কমার্শিয়াল পার্টনার নেই। নিজের শর্ত ছাড়া ফুটবল চালাতে রাজি নয় আইএসএলের আয়োজকরা। তাঁরা টাকা ঢালবেন, অন্য কেউ ছড়ি ঘোরাবে সেটা হয় নাকি! সমস্যার কথা জানতেন সবাই। তা সত্ত্বেও বিকল্প ভাবার চেষ্টা হয়নি। এমনকী আন্তরিকভাবে সমস্যা মেটানোর উদ্যোগ কী নেওয়া হয়েছিল? আসলে ফেডারেশন কর্তারা চেয়ার বাঁচাতে সচেষ্ট। তাতেই সিদ্ধিলাভ। ফুটবল না বাঁচলে কেউ বাঁচবে না। এই সহজ সত্যিটুকু বুঝতে চান না তারা।
শোনা যাচ্ছে, যে করেই হোক লিগ করতে মরিয়া ক্লাব জোট। তাদের উদ্যোগের প্রশংসা করতেই হয়। কিন্তু বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কতটুকু? তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। অনেকেই মনে করেন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এই একই ফর্মুলায় লিগ আয়োজিত হয়। কিন্তু আমাদের পরিকাঠামো অনেকটাই আলাদা। পেশাদারিত্বেও অনেক এগিয়ে ওরা। এই ধরনের উদ্যোগ সফল করতে পরিকল্পনার নীল নক্সা দরকার। কিন্তু প্রিয় পাঠক, ইতিমধ্যেই সময় গড়িয়েছে প্রচুর। সরকারিভাবে মে মাসে ফুটবল মরশুমের সমাপ্তি। ইতিমধ্যেই প্রবল টাইম প্রেসার উপস্থিত। এই সময়ে ক্লাব জোটের উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ থাকছে। বরং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি সমাধান দরকার। এমন ফর্মুলা প্রয়োজন যাতে ক্লাবের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে। ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতি কখনও ক্লাব চালাননি। প্রশাসক হিসাবে অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার একেবারেই সীমাবদ্ধ। তাঁর কোর গ্রুপে গাইড করার লোক প্রয়োজন ছিল। কিন্তু নিজেদের ভুলভুলাইয়ায় জড়িয়ে পড়েছে ফেডারেশন। ফুটবলের মতো দিল্লি কর্তাদেরও ব্র্যান্ড ভ্যালু বিগ জিরো। (মতামত ব্যক্তিগত)