চকচক করলেই তা সোনা হয় না। ঠিক তেমনই প্রাক্তন খেলোয়াড় মানেই দক্ষ প্রশাসক তা ভাবা ভুল। সবচেয়ে বড় উদাহরণ ফেডারেশন সভাপতির চেয়ার। জাতীয় দলের পারফরম্যান্স তলানিতে। মাঠের বাইরেও ফেডারেশনের ভাবমূর্তি ধুলোয় গড়াগড়ি দিচ্ছে। গত তিন বছরে এক আলোকবর্ষ পিছিয়ে গিয়েছে। স্পোর্টস বিল দেখে অনেকেই প্রফুল্ল। সবকিছু ছাপিয়ে ফিফা ব্যানের আশঙ্কায় কাঁপছে ভারতীয় ফুটবল। ৩০ অক্টোবর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। শোনা যাচ্ছে ফেডারেশনের নির্বাচন ও সংবিধান লাগু নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে সর্বোচ্চ আদালত। অর্থাৎ নির্বাচন অবশ্যম্ভাবী। সেক্ষেত্রে নতুন কমিটির হাত ধরেই অনিশ্চয়তার আঁধার কাটতে পারে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ফেডারেশনের ক্ষমতা বদল হয়। প্রফুল প্যাটেলের পর সভাপতির চেয়ারে বসেন কল্যাণ। পরের তিন বছরে মুখ থুবড়ে পড়েছে পারফরম্যান্স গ্রাফ। এই সময়ে তিনজন সচিবকে সরতে হয়েছে। ফিফা র্যাঙ্কিং ১৩৩। শুধু তাই নয়, ২০২৪ ফুটবল মরশুমে একটিও ম্যাচও জেতেনি জাতীয় দল। আর্থিক দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ। দিশাহীন, অরাজকতার ছবি স্পষ্ট। প্রশাসনিক দিক থেকে এই কমিটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ। একটা সময় অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ আয়োজন করে তাক লাগিয়েছিল ভারত। জিকসন, বরিস সিংরা সেই পরিকল্পনারই ফসল। সেই স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটেছে। পরবর্তীতে এশিয়া কাপ আয়োজনের দৌড়ে প্রবলভাবে ছিল ভারত। অথচ হঠাৎ করেই সেই স্লট থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় ফেডারেশন। সর্ষের মধ্যে ভূত থাকা আশ্চর্যের নয়। ফিফার কাছেও ভাবমূর্তি তলানিতে। ক্রোট কোচ ইগর স্টিমাচকে ছাঁটাই করে হিরো সাজতে গেলেন কর্তারা। শেষ পর্যন্ত প্রায় চার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে নিস্তার পায় এআইএফএফ। কাদের হাতে পড়েছে ভারতীয় ফুটবল? আই লিগ চ্যাম্পিয়শিপ নিয়ে কেলেঙ্কোরির একশেষ। তড়িঘড়ি ট্রফি তুলে দেওয়া হল চার্চিল ব্রাদার্সের হাতে। শেষ পর্যন্ত বল গড়ায় ক্যাসে। সপাটে চড় খেয়ে ইন্টার কাশীকে বিজয়ী ঘোষণা করতে বাধ্য হয় ফেডারেশন। সঙ্গে ক্ষতিপূরণ তো রয়েইছে। নানা মামলা চালাতে জলের মতো টাকা খরচ হচ্ছে। পরের পর ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে ফেডারেশন। এর ফল ভুগতে হচ্ছে ভারতীয় ফুটবলকে।
লেখক প্রাক্তন সিনিয়র সহ-সভাপতি, এআইএফএফ। মতামত ব্যক্তিগত।