Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

৮২ লক্ষ কোটির সম্পদ ভারতের ১৯১ বিলিওনেয়ারের

৮২ লক্ষ কোটির সম্পদ ভারতের ১৯১ বিলিওনেয়ারের
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ০০:০৩
Prefer us on Google
নয়াদিল্লি: চিত্র ১) মোদি জমানায় আকাশছোঁয়া বেকারত্ব। অগ্নিমূল্যের বাজারে মধ্যবিত্তের ত্রাহি ত্রাহি রব। সংসার চালানোর পর সঞ্চয়ের জন্য হাতে নয়া পয়সাও থাকছে না। ক্ষুধা সূচকে ভারতের অবস্থান নেপাল, বাংলাদেশের থেকে খারাপ। 
Advertisement
চিত্র ২) এগচ্ছে ভারত। বিশ্বের সর্বোচ্চ ধনকুবেরদের সম্পদের নিরিখে স্থান আমেরিকা, চীনের পরেই। দেশের ১৯১ জন বিলিওনেয়ারের হাতেই রয়েছে ০.৯৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ। টাকার অঙ্কে যা ৮২ লক্ষ কোটির বেশি। গ্লোবাল রিয়েল এস্টেট কনসালটেন্ট ‘নাইট ফ্র্যাঙ্ক’ এমনই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতেই মোদির ভারতের বৈষম্যের দুই চিত্র প্রকাশ্যে।
এক কোটি ডলারের বেশি অর্থ রয়েছে, এমন ধনকুবেরদের তালিকায় রেখে বুধবার রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। পোশাকি নাম, ‘দ্য ওয়েল্থ রিপোর্ট ২০২৫’। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে ভারতে হাই নেট ওয়ার্থ ইন্ডিভিজিুয়ালের (যাদের অর্থের পরিমাণ ১ কোটি বা ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি) সংখ্যা ৮৫ হাজার ৬৯৮ জন। আর এই নিরিখে আমেরিকা, চীন ও জাপানের পরেই রয়েছে ভারত। ২০২৩ সালে সংখ্যাটি ছিল ৮০ হাজার ৬৮৬। ২০২৮ সালে তা পৌঁছে যেতে পারে প্রায় ৯৪ হাজারে। অর্থাৎ, অঙ্কটা স্পষ্ট—কোটিপতি বৃদ্ধির হারে বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোকে টেক্কা দিচ্ছে ভারত। ২০২৩’এর তুলনায় ২০২৪-এ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ধনকুবেরদের সংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ৪ শতাংশ। ভারতের সেই হার ছিল ৬ শতাংশ। আর ২০২৮-এর পূর্বাভাস? ৯ শতাংশ। অর্থাৎ, বিশ্বের গড় ৭ শতাংশকে পিছনে ফেলে অনেকটাই এগিয়ে যাবে ভারত। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর বিলিওনেয়ারদের এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন ২৬ জন ভারতীয়। তার আগের বছরগুলির তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। অথচ, ২০১৯ সালে মাত্র ৭ জন এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। এখনই দুনিয়ার ধনীতমদের ৩.৭ শতাংশ ভারতের বাসিন্দা। ‘দ্য ওয়েল্থ রিপোর্ট ২০২৫’-এ বলা হয়েছে, আমেরিকা ও চীনে বিলিওনেয়ারদের সম্পদের পরিমাণ যথাক্রমে ৫.৭ লক্ষ কোটি ডলার ও ১.৩৪ লক্ষ কোটি ডলার। ৯৫০ কোটি ডলার সম্পদ নিয়ে ভারতীয়রা এই তালিকায় তিন নম্বরে রয়েছেন। নাইট ফ্র্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর শিশির বাইজল। তাঁর বিশ্লেষণ, ‘ভারতের এই উন্নতি দেশের আর্থিক সমৃদ্ধির সম্ভাবনাকেই তুলে ধরছে। নতুন নতুন শিল্প, বহুমুখী উদ্যোগ ও বিশ্বায়নের জেরে ধনকুবেরের সংখ্যা অভূতপূর্ব গতিতে বাড়ছে।’ অথচ, ভারতীয়দের আয়ের বৈষম্য নিয়ে গত মাসে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছিল দ্য পিপলস রিসার্চ। ভারতীয়দের কনজিউমার ইকনমি (প্রাইস)—এর তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা জানিয়েছিল, ২০২৩ সালে ক্রেতাদের আয়ের বৈষম্য ১৯৫০’এর থেকেও বেশি। আরও কঠোর বাস্তব? এই দেশেই ৮০ কোটি মানুষ এখনও বিনামূল্যে রেশন নিয়ে থাকেন। সম্পদ চলে যাচ্ছে মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে। বিলিওনেয়ার বাড়ছে। সঙ্গে গরিবও।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ