Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

নেতা সূর্যের তেজে জিতল ভারত, ওয়াংখেড়েতে হোঁচট খেল আমেরিকা, বল হাতে সফল সিরাজ

আরব সাগরের পাড়ে সূর্যোদয়! সেটাও রাতের আকাশে। কাপ অভিযানের শুরুতেই গতবারের চ্যাম্পিয়নদের দেখাচ্ছিল বিপর্যস্ত।

নেতা সূর্যের তেজে জিতল ভারত, ওয়াংখেড়েতে হোঁচট খেল আমেরিকা, বল হাতে সফল সিরাজ
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মুম্বই: আরব সাগরের পাড়ে সূর্যোদয়! সেটাও রাতের আকাশে। কাপ অভিযানের শুরুতেই গতবারের চ্যাম্পিয়নদের দেখাচ্ছিল বিপর্যস্ত। আমেরিকার কাছে পচা শামুকে পা কাটার মতোই অবস্থা হয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার। মজার ছলে নেটদুনিয়ায় চলছিল পোস্ট— শুল্ক বাঁচাতে ট্রাম্পকে খুশি করাই বোধহয় মোদির ভারতের লক্ষ্য! কোণঠাসা এমন পরিস্থিতিতেই জ্বলে উঠলেন সূর্যকুমার যাদব। টিম ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেনের বীরত্বের লড়াই অন্ধকারে জ্বালল আশার আলো। ২৯ রানে ভারতের জয়ের নায়ক তিনিই। ৪৯ বলে তাঁর নট আউট ৮৪ ছাড়া ফেভারিটদেরই যে নাকের জলে, চোখের জলের দশা হয়েছিল!

Advertisement

নোরা ফাতেহির নাচ, ঋষভ রিখিরাম শর্মার সেতার, শিবমণির ড্রামে বর্ণময় উদ্বোধনের পর ভারতের শুরুটা হয়েছিল ফ্যাকাশে ভাবেই। অভিষেক শর্মা ‘গোল্ডেন ডাক’। অর্থাৎ প্রথম বলেই আউট। ঈশান কিষানকে (১৬ বলে ২০) ছন্দে দেখাচ্ছিল না। ব্যাটে-বলে করতেই সমস্যায় পড়ছিলেন। তিলক ভার্মা (১৬ বলে ২৫) শুরুটা ভালো করলেও বেশিক্ষণ থাকেননি। পাওয়ার প্লে’র মধ্যে চতুর্থ উইকেট পড়ে। এবার ‘গোল্ডেন ডাক’ শিবম দুবে। স্কোরবোর্ড তখন ৪৬-৪। রিঙ্কু সিং (১৪ বলে ৬), হার্দিক পান্ডিয়াও (৬ বলে ৫) অহেতুক আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে উপহার দেন উইকেট। ইংল্যান্ডের বাজবলের মতো ভারতও যেন পরিস্থিতি-পরিবেশ না দেখেই বড়লোকের বাউন্ডুলে ছেলের মতো ধুমধাড়াক্কা আগ্রাসনের মন্ত্র জপছে। হালফ্যাশনের হেয়ারস্টাইল করা হার্দিক যেমন স্পিনারকে অহেতুক ওড়াতে গেলেন। অথচ, তখন দরকার ক্রিজে টিকে থাকা, পার্টনারশিপ গড়া। 
১২.৪ ওভারে ৭৭-৬। ভারত তখন রীতিমতো ধুঁকছে। ওয়াংখেড়েতে পিনপতনের নৈঃশব্দ্য। চোরা টেনশনে থমথমে ডাগ-আউট। কোচের মুখ গুরুগম্ভীর। নিখুঁত লাইন-লেংথ, গতির হেরফের ও বুদ্ধিদীপ্ত ফিল্ড প্লেসিংয়ে আমেরিকা তখন চালকের আসনে। ঠিক ট্রাম্পের মতোই উদ্ধত হাবভাব। সেটাই চুরমার হয়ে গেল সূর্যের তেজে। 
অধিনায়কোচিত ইনিংসে দেড়শোর গণ্ডি পার করিয়ে দিলেন ‘স্কাই’। কেন তিনি ‘৩৬০ ডিগ্রি’ব্যাটার, সেটাও হাড়ে হাড়ে টের পেল বিপক্ষ। দশটা চার ও চারটি ছক্কায় সাজানো ইনিংস ভেন্টিলেশন থেকে বের করে আনল দলকে। উল্টোদিকে যাওয়া-আসার পালার মধ্যেও একা কুম্ভ হয়ে সামলালেন গড়। অক্ষর প্যাটেল (১৪), অর্শদীপ সিং (৪) ফিরলেও উদ্ভাবনী শটের প্রদর্শনীতে মাঠ মাতান তিনি। বিশেষ করে সৌরভ নেত্রাভালকরের প্রতি সবচেয়ে নির্দয় দেখাল তাঁকে। বাঁ-হাতি পেসারের চার ওভারে উঠল ৬৫, যা টি-২০ বিশ্বকাপে রেকর্ড! এই ফরম্যাটে সূর্যের ২৫তম পঞ্চাশ সেজন্যই স্পেশাল। যা শেষ পর্যন্ত টিম ইন্ডিয়াকে পৌঁছে দেয় ১৬১ রানের স্বস্তির স্টেশনে।
অঘটন ঘটাতে শুরুটা ভাল হওয়া জরুরি ছিল আমেরিকার। কিন্তু চার ওভারের মধ্যেই তিন উইকেট খুইয়ে খোলসে ঢুকে পড়ে তারা। রাতারাতি হর্ষিত রানার চোটে স্কোয়াডে আসা মহম্মদ সিরাজ ফেরান দুই ওপেনারকেই। ক্যাপ্টেন মোনাংক প্যাটেল (০) শিকার হন অর্শদীপের। সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি (৩৭), মিলিন্দ কুমার (৩৪) মরিয়া চেষ্টা করলেও তা জেতার পক্ষে যথেষ্ট ছিল না। দু’জনেই ফেরেন স্পিনে। অক্ষর নেন দু’উইকেট। বরুণের সংগ্রহে একটি। মোনাংকরা শেষ পর্যন্ত আট উইকেটে থামেন ১৩২ রানে। ভারতের সফলতম বোলার সিরাজ (৩-২৯)। তবে জিতলেও এই জয় অনেক প্রশ্ন তুলে দিল। লাগামহীন আগ্রাসন রাশ টানা যে জরুরি, সেটা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করেছে টিম ইন্ডিয়া। এদিন সূর্য পরিত্রাতা হয়ে উঠলেন অনভিজ্ঞ আমেরিকার বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রতিদিন তো আর তা হবে না। তখন আত্মতুষ্টির খেসারত দিতে হতেই পারে!
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত ১৬১-৯ (সূর্য অপরাজিত ৮৪, তিলক ২৫, ঈশান ২০, স্কালকউইক ৪-২৫, হরমিত ২-২৬)। আমেরিকা ১৩২-৮ (শুভম ৩৭, সঞ্জয় ৩৭, মিলিন্দ ৩৪, সিরাজ ৩-২৯)। 
 ভারত জয়ী ২৯ রানে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ