নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক আক্রমণ এবং ভারতকে চরম অপমান করার পরও সরাসরি কোনও বিবৃতি দেয়নি কেন্দ্র। এমনকী একটিও বক্তব্য খণ্ডন করেনি। এনিয়ে বিরোধীরা সরব। শনিবার ভারত জবাব দিল ঠিকই, তবে সেই প্রতিবাদের অস্ত্রনিক্ষেপ যেন মেঘনাদের মতো মেঘের আড়াল থেকে। অর্থাৎ ট্রাম্প সরাসরি ভারতের নাম করে বিবৃতি দিচ্ছেন এবং শুল্ক আরোপের গোলাগুলি চালাচ্ছেন। ভারত এখনও পর্যন্ত ট্রাম্প অথবা আমেরিকার নামোচ্চারণ করছে না। তবে শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ট্রাম্পের ‘ভারত একটি মৃত অর্থনীতি’ বিবৃতিকে পালটা জবাব দিতেই যেন বারাণসী থেকে জানিয়ে দিলেন, খুব দ্রুত ভারত হবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। ভারত গোটা দুনিয়ার এই টালমাটাল পরিস্থিতেও শক্তিশালী অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। একটি অস্থিরতা চলছে বিশ্বজুড়ে। সকলেই প্রত্যাশিতভাবে নিজেদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে। ভারত ঠিক সেটাই করবে। মোদির এই বার্তার পিছনে যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়া সংক্রান্ত হুঁশিয়ারি, সেটা নিয়ে সন্দেহ নেই। রাশিয়ার বন্ধুদের অথবা বাণিজ্য সঙ্গীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ট্রাম্প অবিরত হুমকি দিচ্ছেন। এমতাবস্থায় শনিবার মোদি পরোক্ষে তার জবাব যেমন দিলেন। তেমনই ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও এদিনই কঠোর বার্তা দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে যে, রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনা ভারত বন্ধ করবে না। কমিয়েও দেবে না। সোজা কথায় ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে অগ্রাহ্য করবে ভারত। শনিবার ট্রাম্প পুনরায় রাশিয়া ও তার বন্ধুদের নতুন করে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ১২ দিন সময় দিলাম রাশিয়াকে। ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধ করুক। নচেৎ সব পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। আর রাশিয়ার সঙ্গে যাদের বাণিজ্য সম্পর্ক (অর্থাৎ ভারত, চীন) তাদের উপর লাগু হবে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির দিনেই কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারতের তেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মূল্য, অশোধিত তেলের গুণমান, পরিকাঠামো এবং অন্যান্য আর্থিক কারণের উপর। ভারত যদি সস্তায় রাশিয়ার তেল কেনার সিদ্ধান্ত না নিত, তাহলে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম নিশ্চিতভাবেই বাড়ত। কারণ ওপেক উৎপাদন নিশ্চিভাবেই কমিয়ে দিত। ভারত বলেছে, রাশিয়ার তেলের উপর কখনও কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল না। তাছাড়া এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত অর্থাৎ ইউক্রেন যুদ্ধের সময়কালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়া থেকে সবথেকে বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস কিনেছে। সংখ্যার নিরিখে যা ৫১ শতাংশ। ভারতের এই যুক্তির জেরে বস্তুত প্রচ্ছন্নভাবে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থা নিতে পারবেন? উত্তরটাও সোজা, পারবেন না। কারণ, তারা তো আমেরিকার ন্যাটো পার্টনার!



