নয়াদিল্লি: ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর ভারত আর উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে চায় না। কিন্তু পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালাতে এলে ভারতও চুপ করে বসে থাকবে না। হামলার কড়া জবাব দেওয়া হবে। বুধবার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। এদিন আমেরিকা, ব্রিটেন, রাশিয়া, ফ্রান্স, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও জাপানের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলেন দোভাল। পাকিস্তানে কীভাবে প্রত্যাঘাত করা হয়েছে, তা অন্য দেশগুলির কাছে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। কেন্দ্রের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভারত কী পদ্ধতিতে হামলা চালিয়েছে, কোন কোন বিষয়ে মাথায় রাখা হয়েছিল এবং ভারত যে কোনও উস্কানি দিতে চায় না—এই সব বিষয়গুলি দোভাল বুঝিয়ে বলেছেন। আগামী দিনেও দেশগুলিকে ভারতের পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের ওই আধিকারিক।
এদিকে অপারেশন সিন্দুরের পর থেকেই কার্যত ফুঁসছে ইসলামাবাদ। ভারতকে কড়া জবাব দেওয়া হবে বলে দাবি করছেন সেনাকর্তারা। তবে পাকিস্তানের হামলা ঠেকাতে ইতিমধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ সেরে রেখেছে ভারতীয় সেনা। একদিকে, যেমন নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তে পাকিস্তানের গুলির জবাব দেওয়া হচ্ছে, তেমনই আকাশপথে হামলা ঠেকাতে মোতায়েন করা হয়েছে এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। রাশিয়ায় তৈরি এই সুরক্ষা ব্যবস্থা ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং যুদ্ধবিমানকে আকাশেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। সাম্প্রতিক অতীতে একাধিকবার এই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৮ সালে রাশিয়ার থেকে মোট পাঁচটি এস-৪০০ সিস্টেম কেনার বরাত দেয় ভারত। ইতিমধ্যেই তিনটি দিল্লির হাতে এসে গিয়েছে। আগামী বছর বাকি দুটিও হাতে পারে ভারত।
সেনা সূত্রে খবর, মাত্র পাঁচ মিনিটেই এই সিস্টেমকে কাজে লাগানো যায়। এছাড়া এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়াও সহজ। এই সিস্টেমে যুক্ত রেডার ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারিতে সক্ষম। এছাড়া এতে রয়েছে চার ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র। যেগুলির পাল্লা যথাক্রমে ৪০০ কিমি, ২৫০ কিমি, ১২০ কিমি এবং ৪০ কিমি। একই সময়ে ৩০০টি টার্গেট করতে এবং ৩৬টি টার্গেটকে ধ্বংস করতে পারে এস-৪০০। সেনার ওই সূত্রটি জানিয়েছে, আপাতত উত্তর, পশ্চিম ও পূর্ব ভারতে এই সিস্টেম মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে শুধু বিদেশি প্রযুক্তিতে ভরসা নয়। ভারত দেশীয় প্রযুক্তির এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রোজেক্ট কুশ’। এটি তৈরির দায়িত্বে রয়েছে ডিআরডিও। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে তা ভারতের আকাশসীমায় একটি সুরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করবে। এতে যে মিসাইল ব্যবহার করা হবে, তা ১৫০ কিমি থেকে ৩৫০ কিমি দূরের লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করতে সক্ষম। ‘প্রোজেক্ট কুশ’ এস-৪০০ এবং ইজরায়েলের বিখ্যাত আয়রন ডোমের সমতুল্য হবে বলেও সেনার একটি সূত্র জানিয়েছে।