গুয়াহাটি: ভারতকে হামাগুড়িই দেওয়াল প্রোটিয়ারা! মঙ্গলবার কোচ কনরাড শুকরির মুখে শোনা গিয়েছিল ‘গ্রোভেল’ শব্দটা। হোমটিমকে দিনভর ফিল্ডিং খাটানোর পর ব্যাট হাতে হামাগুড়ি দেওয়ানোই ছিল লক্ষ্য। বুধবার তা করেও দেখাল দক্ষিণ আফ্রিকা। কার্যত গম্ভীর ব্রিগেডের নাকে ঝামা ঘষে দিল তেম্বা বাভুমার দল। মুম্বইয়ে জঙ্গি হানার জন্য ‘২৬/১১’ যেমন দেশবাসীর চিরন্তন ক্ষতচিহ্ন, তেমনই দেশের ক্রিকেটে কলঙ্কিত হয়ে থাকল এই দিনটা। এবারের ‘২৬/১১’ বহন করবে ভারতের টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের লজ্জার ক্ষত। ৪০৮ রান! হ্যাঁ, চারশোরও বেশি রানে ঘরের মাঠে টেস্ট হারলেন পন্থ-লোকেশরা। একই সঙ্গে টেস্ট সিরিজে ০-২ হোয়াইটওয়াশের আশঙ্কাও সত্যি হল। বছরখানেক আগে টম লাথামের নিউজিল্যান্ড এদেশে এসে ৩-০ হোয়াইটওয়াশ করেছিল। আর এবার গৌতম গম্ভীরদের কান মুলে দিলেন সাইমন হার্মাররা।
সকালে ২৭-২ নিয়ে শুরু করেছিল ভারত। কিন্তু নৈশপ্রহরী কুলদীপ যাদব ফিরতেই শুরু ভাঙন। ধ্রুব জুরেল তিন বলের বেশি থাকেননি। ক্যাপ্টেন ঋষভ পন্থও দ্রুত ফেরেন। লড়লেন একমাত্র রবীন্দ্র জাদেজা। স্রেফ তাঁকেই দেখা গেল স্কোরবোর্ড সচল রাখতে। কিন্তু কোনও জুটিই যে হল না। তৃতীয় সেশন পর্যন্ত তাই গড়াল না ম্যাচ। তার আগেই বশ মানল ভারত।
দেশের মাঠে অপরাজেয় তকমার যে সলিল সমাধি হতে চলেছে তার ইঙ্গিত অবশ্য আগেই ছিল। ইডেনে পছন্দের ঘূর্ণি পিচ বানিয়ে তিন দিনের মধ্যেই আত্মসমর্পণ করেছিল ভারত। তা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে আর ঘূর্ণি পিচের পথে যায়নি ভারত। কিন্তু তাতেও সুবিধা হয়নি। প্রথম ইনিংসে মার্কো জানসেনের ‘শর্টপিচ থিওরি’ প্রকাশ্যে এনেছিল পেস ও বাউন্সের সামনে অক্ষমতা। আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪৯ রানের পাহাড়প্রমাণ টার্গেটের সামনে আগাগোড়া অসহায় দেখাল তারকাদের। মূলত অফ-স্পিনার হার্মারের সামনে নতজানু পুরো টিম। তাঁর ড্রিফট, গতির হেরফের, বৈচিত্র্যের সামনে স্কুলপড়ুয়া লাগল টিম ইন্ডিয়াকে। ছয় উইকেট নিলেন তিনি। কেশব মহারাজ নিলেন দু’টি। মুথুস্বামীর পকেটেও এক উইকেট। আর কবে স্পিন খেলতে শিখবেন সুদর্শন, নীতীশরা!
২০০০ সালে ভারতের মাটিতে শেষবার টেস্ট সিরিজ জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেবারও দুই টেস্টের সিরিজে শচীন তেন্ডুলকরের দলকে ২-০ হারায় তারা। এবার তেম্বা বাভুমার নেতৃত্বে ২৫ বছরের খরা কাটল। একসময় ভারতে খেলতে আসা যে কোনও বিদেশি দলের কাছে ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই ঐতিহ্য খানখান গম্ভীরের হাতে। অথচ, তিনি কোচ হওয়ার আগের ১২ বছরে দেশের মাঠে উড়েছে একের পর এক জয়পতাকা। একযুগের সেই দাপট এখন ধুলিসাৎ। দলটা নিয়ে যা খুশি তা করার ফল গম্ভীরের চোখের সামনেই। ধ্রুব জুরেল, নীতীশ রেড্ডিরা আয়ারাম গয়ারাম। সাই সুদর্শনকে মনে হল শিকলে বন্দি। রানটাও যে করতে হয়, জানেন না। ব্যাটসম্যানরা ধুঁকছেন, বোলাররা বেধড়ক ঠ্যাঙানি খাচ্ছেন। লড়াইয়ের মানসিকতা একেবারে উধাও। ভাগ্যিস, সিরিজটা তিন টেস্টের ছিল না। তাহলে যে আরও অপমান অপেক্ষা করত!
স্কোরবোর্ড: দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস ৪৮৯। ভারত প্রথম ইনিংস ২০১। দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংস ২৬০-৫ (ডিক্লেয়ার্ড)। ভারত দ্বিতীয় ইনিংস (২৭-২ এর পর)- সুদর্শন ক মার্করাম বো মুথুস্বামী ১৪, কুলদীপ বো হার্মার ৫, জুরেল ক মার্করাম বো হার্মার ২, পন্থ ক মার্করাম বো হার্মার ১৩, জাদেজা স্টাঃ ভেরিন্নে বো মহারাজ ৫৪, সুন্দর ক মার্করাম বো হার্মার ১৬, নীতীশ ক ভেরিন্নে বো হার্মার ০, বুমরাহ অপরাজিত ১, সিরাজ ক জানসেন বো মহারাজ ০, অতিরিক্ত ১৬, মোট (৬৩.৫ ওভারে) ১৪০। উইকেট পতন: ৩-৪০, ৪-৪২, ৫-৫৮, ৬-৯৫, ৭-১৩০, ৮-১৩৮, ৯-১৪০, ১০-১৪০। বোলিং: জানসেন ১৫-৭-২৩-১, মুল্ডার ৪-১-৬-০, হার্মার ২৩-৬-৩৭-৬, মহারাজ ১২.৫-১-৩৭-২, মার্করাম ২-০-২-০, মুথুস্বামী ৭-১-২১-১।
দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ী ৪০৮ রানে। ২-০ সিরিজ জয় প্রোটিয়াদের। ম্যাচের সেরা- মার্কো জানসেন সিরিজের সেরা- সাইমন হার্মার।