দীপেন্দু বিশ্বাস: মঙ্গলবার ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ দেখতে দেখতে একটা সময় বিরক্তিতে টিভি বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এমন ছন্নছাড়া ফুটবল! এই ভারত আমার বড্ড অচেনা। সত্যিই কি এমন ফুটবল খেলার জন্য কোনও কোচের প্রয়োজন হয়? আমার তো মনে হয় না। অথচ ফেডারেশন কর্তারা কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করে একের পর এক বিদেশি কোচ নিয়োগ করে চলেছেন। স্টিমাচ-মানোলোদের হাত ধরে ভারতীয় ফুটবল শুধুই পিছবে। আমাদের সময় বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়াকে বলে বলে হারাতাম। অথচ এই সব দলগুলি এখন ঘরের মাঠে এসে পয়েন্ট নিয়ে চলে যাচ্ছে। প্রাক্তন ফুটবলার হিসেবে এটা সত্যিই লজ্জার।
এই ব্যর্থতার দায় অবশ্যই কোচ মানোলো মার্কুয়েজকে নিতে হবে। মঙ্গলবার ম্যাচে একবারও দেখে মনে হয়নি, নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনামাফিক ফুটবল খেলছে ভারতীয় ফুটবলাররা। মর্ডান ফুটবলে উইং থেকে হাই প্রেসিং ফুটবল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লিস্টন-উদান্তাদের মধ্যে তেমন কিছুই দেখলাম না। অথচ এরাই ক্লাব ফুটবল দিনের পর দিন এই কাজটাই করে আসছে। তাহলে দেশের হয়ে রাতারাতি এমন কী ঘটে গেল, যে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা মেলে ধরতে পারছে না? আসলে মানোলো মার্কুয়েজ গোটা দলটাকে এক সুতোয় গাঁথতে ব্যর্থ। ফলে যা হওয়ার সেটাই হয়েছে।
একইসঙ্গে ফেডারেশন কর্তারাও এই খারাপ পারফরম্যান্সে দায় এড়াতে পারেন না। এখন ভারতীয় দলে খেলার জন্য আইএসএলই একমাত্র মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানছি, দেশের এক নম্বর লিগের প্রাধান্য সবসময় বেশি। তাই বলে কী অন্যান্য দিকগুলিও খোলা থাকবে না। আমাদের সময় সন্তোষ ট্রফি, কলকাতা লিগ, রোভার্স কাপ খেলেও জাতীয় দলের দরজা খুলত। অথচ ফেডারেশন কর্তাদের কাছে এই সব টুর্নামেন্টগুলি দুয়োরানি। নেই কোনও স্পটার। না রয়েছে খোঁজখবর রাখার কোনও লোক। এই প্রসঙ্গে একটা কথা মনে পড়ছে, ১৯৯৭ সালে কলকাতা লিগে মোহন বাগান বনাম সোনালি শিবির ম্যাচে সন্দীপ নন্দী দারুণ খেলেছিল। আমার ও চিমার একাধিক শট রুখে দেয়। ম্যাচ শেষে অমল (দত্ত) স্যার বলেছিলেন, এই ছেলেটা ভারতীয় দলে খেলার যোগ্যতা রাখে। ঠিক তার পরের দিনই সন্দীপ জাতীয় শিবিরে ডাক পায়। অর্থাৎ সেই সময় ঘরোয়া লিগকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হতো। এখন তো সেসব দেখার কেউ নেই। ফলে প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রদীপের আড়ালেই থাকতে হচ্ছে। ফেডারেশন কর্তাদের উচিত, এই বিষয়টাতে নজর দেওয়া। কারণ বাংলাদেশ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সুনীল-সন্দেশদের বয়ে বেড়ানো বৃথা। জাতীয় দলের হয়ে ওদের আর দেওয়ার কিছুই নেই। তার জায়গায় বরং তরুণ ফুটবলারদের বেশি করে সুযোগ দেওয়া হোক।