নয়াদিল্লি: মোদি সরকারের গর্জন কি নামেই? ট্রাম্পের হুমকিতে মাথা নুইয়ে কি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়েই ফেলছে? সরকার মুখে যতই বলুক ভারতের স্বার্থ সবার আগে, কারও চাপে মাথা নত করা হবে না। রিপোর্ট কিন্তু বলছে, রাশিয়ার থেকে গত মাসেই তেল আমদানি অনেকটাই কমিয়েছে ভারত। বরং নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে আমেরিকার উপর।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করায় ভারতের উপর বর্ধিত শুল্ক ও ‘জরিমানা’ আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই জরিমানার হার কী হবে, তা অবশ্য এখনও ঘোষণা করেননি তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ট্রাম্পের জরিমানা ঘোষণার অনেক আগেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিমাণ কমিয়েছে ভারত। বদলে আমেরিকা থেকে তেল আমদানির পরিমাণ ক্রমশ বাড়ানো হয়েছে। তেল পরিবহণকারী ভেসেলের গতিবিধির তথ্য সংগ্রহ করে কেপলার নামে এটি সংস্থা। ওই সংস্থার দেওয়া তথ্য বলছে, জুলাই মাসে প্রতিদিন ভারত রাশিয়া থেকে প্রায় ১৬ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি আমদনি করেছে। অথচ জুন মাসেই রাশিয়া থেকে প্রতিদিন ২১ লক্ষ ব্যারেল তেল আমদানি করেছিল দিল্লি। যা ২৪ শতাংশ কম। জুন মাসে সারা বিশ্ব থেকে ভারত মোট যত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছিল, তার ৪৪.৫ শতাংশই ছিল রাশিয়ার। জুলাইয়ে সেই পরিমাণ এক ধাক্কায় কমে ৩৩.৮ শতাংশ হয়েছে।
উল্টোদিকে, জুন মাসের তুলনায় জুলাইয়ে আমেরিকা থেকে ২৩ শতাংশ বেশি তেল আমদানি করেছে ভারতীয় সংস্থাগুলি। জুলাই মাসে কত পরিমাণ তেল বিদেশ থেকে কেনা হবে, তা মে বা জুন মাসেই চূড়ান্ত করে ফেলে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি জ্বালানি তেল সংস্থাগুলি। তাই ট্রাম্পের জরিমানা চাপানোর অনেক আগেই ভারতীয় সংস্থাগুলি রাশিয়া থেকে কম তেল কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি আগামী দিনে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য চুক্তিও আপাতত স্থগিত করে দিয়েছে।
ট্রাম্পের ‘জরিমানা’ ঘোষণার পরেই জল্পনা ছড়িয়েছিল, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্টও জানিয়েছিলেন, এই ঘটনা সত্যি হলে তা ভালো পদক্ষেপ। যদিও ভারত জানিয়ে দেয়, এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে, তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত আমেরিকা থেকে গড়ে প্রতিদিন ২ লক্ষ ৭১ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে ভারত। গত বছর একই সময়সীমার মধ্যে মার্কিন মুলুক থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ লক্ষ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করা হত। গত বছরের নিরিখে চলতি বছরে এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে এই তেল আমদানি ১১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, আমেরিকা থেকে এলপিজি ও এলএনজি (প্রাকৃতিক গ্যাস) কেনার পরিমাণও বাড়িয়েছে ভারত। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সব মিলিয়ে ২৪৬ কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করা হয়েছে। যা তার আগের অর্থবর্ষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ভবিষ্যতে আমেরিকা থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে এলএনজি আমদানি নিয়েও আলোচনা শুরু করেছে ভারত। এর জন্য কয়েক লক্ষ কোটি টাকা খরচ হতে পারে।