মুল্লানপুর: টেস্ট অভিষেকেই নজর কাড়লেন মানব সুতার। রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরের ২৩ বছর বয়সি অলরাউন্ডার ব্যাটে-বলে অবদান রাখলেন। রবিবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাটে ২৮ রান করার পাশাপাশি স্পিন বোলিংয়ে তিন উইকেট নেন তিনি। যার ফলে সফরকারী দলের প্রথম ইনিংস কার্যত ধুঁকছে। ৮ উইকেটে ৫৬৪ রানে ডিক্লেয়ার করে ভারত। জবাবে দিনের শেষে আফগানদের সংগ্রহ ১১৩-৫। এখনও ৪৫১ রানে পিছিয়ে তারা।
এদিন সকালে তিন উইকেটে ৩৬৮ নিয়ে শুরু করে ভারত। ক্যাপ্টেন শুভমান গিল ফেরেন ১২৬ রানে। সেই সঙ্গে ঋষভ পন্থের সঙ্গে যষ্ঠ উইকেটে তাঁর ১৬৯ রানের জুটিতে দাঁড়ি পড়ে। মহম্মদ সালিমের চতুর্থ শিকার হন তিনি। পঞ্চম উইকেটের জন্য অবশ্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ডানহাতি আফগান পেসারকে। ধ্রুব জুরেলকে (১৯) বোল্ড করেন ২৩ বছর বয়সি সালিম। এক্ষেত্রে বলটা না খেলে ছেড়ে দিয়েছিলেন ভারতীয় কিপার-ব্যাটার। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখেন তাঁর অফস্টাম্প ছিটকে গিয়েছে। এরপর ঋষভ পন্থের শতরানের আশায় জল ঢালেন হাশমাতুল্লাহ শাহিদি। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে ছয় হাঁকাতে গিয়ে বিপদ ডাকেন তিনি। পন্থের (৮১) ক্যাচ তালুবন্দি করেন আজমাতুল্লাহ ওমারজাই। এরপর দায়িত্ব নিয়ে দলের ইনিংসকে সাড়ে পাঁচশোর ওপারে নিয়ে যান ওয়াশিংটন সুন্দর। উলটোদিকে মানব ও মহম্মদ সিরাজের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটিও গড়ে তোলেন। সুন্দর (অপরাজিত ৫২) পঞ্চাশ পূর্ণ করতেই ইনিংস ডিক্লেয়ার করে টিম ইন্ডিয়া। সালিম ১৪০ রানে নেন ছয় উইকেট, যা টেস্টে তাঁর সেরা বোলিং।
বড়ো রানের বোঝা মাথায় নিয়ে ব্যাট করতে নামা আফগানদের শুরুটা ভালো হয়নি। ধ্রুপদী অ্যাকশনের অধিকারী মানব কোনাকুনি দৌড়ে এসে ব্যাটসম্যানের পরীক্ষা নিতে থাকেন। বল ঘোরানোর পাশাপাশি ফ্লাইট ডেলিভারিও হয়ে ওঠে তাঁর অস্ত্র। টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ বলেই আসে উইকেট। সুইপ মারতে গিয়ে বাড়তি বাউন্সের কারণে ক্যাচ তোলেন ওপেনার আবদুল মালিক (১৬)। মানবের দ্বিতীয় শিকার রহমনউল্লাহ গুরবাজ (১২)। দিনের শেষবেলায় ফের আঘাত হানেন তিনি। ফেরান আফসার জাজাইকে (৩)। বাকি দু’টি উইকেট প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার। তাঁর শিকারের তালিকায় রয়েছেন বিপক্ষ ক্যাপ্টেন শাহিদিও (২০)। মহম্মদ সিরাজ, কুলদীপ যাদব অবশ্য এখনও কোনো উইকেট পাননি।