ঢাকা ও নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন কবে হবে, তা এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। তার মধ্যেই ফের শেখ হাসিনার আমলের ‘ভুল’ খুঁজতে উদ্যোগী হল মহম্মদ ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এবার গত তিনটি সাধারণ নির্বাচনে বেনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হল। এর জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে ইউনুস সরকার। ওই কমিটি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে তদন্ত চালাবে। ইতিমধ্যেই ওই নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মূখ্য নির্বাচনী কমিশনারদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নোটিস জারি করে ইউনুস সরকার যুক্তি দিয়েছে, ভবিষ্যতে যাতে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা যায়, তার জন্যই এই তদন্ত প্রয়োজন। পাঁচ সদস্যের এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি শামিম হাসনাইন। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই কমিটি রিপোর্ট জমা দেবে।
হাসিনার দল আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ব্যাপক রিগিং করে এই তিনটি নির্বাচনে জয় পেয়েছিল। এমনকী সাধারণ মানুষ ভোটও দিতে পারেননি। নির্বাচনের পরিদর্শক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের রিপোর্ট, নাগরিক সংগঠনগুলি সেই সময় কী রিপোর্ট দিয়েছিল তা খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। আওয়ামি লিগ কীভাবে বিরোধী দল, ও সাধারণ মানুষদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করবে, তাও খতিয়ে দেখা হবে। যদিও বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, হাসিনার উপর চাপ বাড়াতেই এই কমিটি তৈরি করা হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশে দুর্গামন্দির ভেঙে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফের হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ উঠল। বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের সুরক্ষা নিয়ে ফের সরব হয়েছে ভারতও। ঢাকার খিলখেতে অবস্থিত ওই মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গাপুজো হত। কিছুদিন আগে মন্দিরটি ভেঙে ফেলার দাবিতে সেখানে জমায়েত করে তথাকথিত ‘তৌহিদি জনতা’। প্রশাসন মন্দিরটি ভাঙার ব্যবস্থা না করলে তারাই সেই কাজ করবে বলে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। এরপরই মন্দিরটি ভেঙে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। রক্ষা পায়নি প্রতিমাও। যদিও প্রশাসনের দাবি, জমি দখল করে মন্দিরটি বেআইনিভাবে তৈরি হয়েছিল। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা জানি, মৌলবাদীরা দুর্গামন্দিরটি ভেঙে ফেলার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার মন্দিরটির নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে সেটি ভেঙে ফেলার অনুমতি দিয়েছে। প্রতিমা সরানোর সময়ও দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশে বারবার এমন ঘটনা ঘটায় আমরা মর্মাহত।’ তাঁর বার্তা, ‘আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি, হিন্দু, তাদের সম্পত্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব।’