লন্ডন: লর্ডস টেস্ট ক্রমশ জমে উঠছে। যশপ্রীত বুমরাহর দাপটে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে দাঁড়ি পড়েছে ৩৮৭ রানে। বুমবুমের ঝুলিতে পাঁচ উইকেট। জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষে ৪৩ ওভারে ৩ উইকেটে ভারতের সংগ্রহ ১৪৫। ক্রিজে রয়েছেন লোকেশ রাহুল (৫৩ ব্যাটিং) ও ঋষভ পন্থ (১৯ ব্যাটিং)। এখনও ২৪২ রানে পিছিয়ে টিম ইন্ডিয়া। ফলে লড়াই বেশ কঠিন।
লর্ডসের বাইশ গজে ব্যাটসম্যানদের কাজ যে বেশ চ্যালেঞ্জিং, ভারতের ইনিংসের শুরুতেই তা স্পষ্ট। দ্বিতীয় ওভারেই আউট হন যশস্বী জয়সওয়াল। চার বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে ফেরা জোফ্রা আর্চারের বলে ফেরেন তিনি। তবে দ্বিতীয় উইকেটে করুণ নায়ারের সঙ্গে ৬১ রানের জুটিতে আশা দেখাচ্ছিলেন লোকেশ রাহুল। কিন্তু সেট হয়ে গিয়েও ফের একবার হতাশ করলেন নায়ার। জো রুটের বাঁ হাতে নেওয়া দুরন্ত ক্যাচে তিনি ফেরেন নিশ্চিত হাফ-সেঞ্চুরির মুখ থেকে। এই সিরিজে পাঁচ ইনিংস হয়ে গেল, একটা পঞ্চাশও এল না তাঁর ব্যাটে। আর কত সুযোগ পাবেন করুণ? এই সিরিজে ভারতের সেরা ভরসা শুভমান গিলও ফেরেন তারপর। ক্যাপ্টেন ফিরতেই বাকফুটে দেখাচ্ছে ভারতকে। তবে ক্রিজে রাহুলের সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছেন ঋষভ পন্থ। চোট নিয়েও ব্যাট করছেন তিনি।
ইংল্যান্ড খেলা শুরু করেছিল ২৫১-৪ নিয়ে। শনিবারের প্রথম বলেই তিন অঙ্কের রানে পৌঁছেছিলেন রুট। টেস্ট কেরিয়ারে এটা তাঁর ৩৭তম শতরান। তার মধ্যে লর্ডসেই আটটি। কোনও ভেন্যুতে এর চেয়ে বেশি টেস্ট শতরান রয়েছে কলম্বোর এসএসসি’ত মাহেলা জয়বর্ধনে (১১), মেলবোর্নে ডন ব্র্যাডম্যান (৯) ও কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে জ্যাক কালিসের (৯)। তবে রুট এদিন বেশিক্ষণ টেকেননি। বিধ্বংসী বুমরাহর শিকার হন তিনি। টেস্টের আসরে এই নিয়ে ১১বার ‘বুমবুম’ ফেরালেন রুটকে।
তবে তার আগেই চলতি টেস্টের সেরা ডেলিভারিতে বেন স্টোকসকে বোল্ড করেছেন বুমরাহ। রাউন্ড দ্য উইকেটে এসে তাঁর করা ডেলিভারি ছিটকে দেয় ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেনের অফস্টাম্প। বুমরাহর পরের ওভারের প্রথম বলে ফেরেন রুটও। ক্রিজে এসে এক বলের বেশি টেকেননি ক্রিস ওকস। দিনের প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যেই বিপক্ষের তিন উইকেট ফেলে ঝটকা দিয়েছিলেন বিশ্বের সেরা পেসার। কিন্তু ব্রাইডন কার্স এসে শুধু বুমরাহর হ্যাটট্রিকই আটকালেন না, কেড়ে নিলেন ভারতের অ্যাডভান্টেজও। জেমি স্মিথের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে ৮৪ রান যোগ করেন তিনি। ২৭১ রানে সাত উইকেট পড়ার পর তিনশোর মধ্যে ইংল্যান্ডকে আটকে রাখার আশায় ছিল ভারত। কিন্তু এই জুটি সেই লক্ষ্যে বাধা হয়ে ওঠে। অবশ্য ব্যক্তিগত ৫ রানে মহম্মদ সিরাজের বলে স্লিপে স্মিথের সহজ ক্যাচ ফেলেন রাহুল। জীবনদানের ফায়দা নিয়ে তিনি হাফ-সেঞ্চুরি করেন।
আসলে বল পাল্টানোর বড় মাশুল দিতে হয় ভারতকে। সাড়ে দশ ওভারের পর দ্বিতীয় নতুন বলের আকার পাল্টে যাওয়ায় তা বদলাতে হয়। কিন্তু পরিবর্তে যে বল বেছে দেন আম্পায়ার, তা পছন্দ হয়নি টিম ইন্ডিয়ার। ধারাভাষ্যকাররাও বলেন, বদলানো বলকে কুড়ি ওভারের পুরনো দেখাচ্ছে। চায়ের বিরতির পর স্মিথকে ফেরান সিরাজই। এরপর জোফ্রা আর্চারকে বোল্ড করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন বুমরাহ। ইংল্যান্ডের শেষ উইকেট যায় সিরাজের পকেটে। বোল্ড হন কার্স (৫৬)। আউট করে উইকেটটি প্রয়াত ফুটবলার ডিয়োগো জোতাকে উৎসর্গ করেন সিরাজ।