গুয়াহাটি: ঘরের মাঠে একসময় ভারত ছিল অপরাজেয়। এখানে টেস্ট সিরিজ জেতাকে বলা হত ‘দ্য ফাইনাল ফ্রন্টিয়ার’। গৌতম গম্ভীর জমানায় টিম ইন্ডিয়ার সেই গর্ব ধুলিসাৎ। বছরখানেক আগে নিউজল্যোন্ডের কাছে ০-৩ হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এখনও টাটকা। আর এবার মাথার উপর ঝুলছে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ০-২ চুনকামের খাঁড়া। তাঁর কোচিংয়ে ভারতীয় ক্রিকেটকে যে আর কত অপমানিত হতে হবে!
ইডেনে তিনদিনের মধ্যেই সিরিজের প্রথম টেস্টে দুরমুশ হয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামেও ফের লেখা হতে চলেছে একই চিত্রনাট্য। তৃতীয় দিনের শেষে প্রোটিয়ারা ৩১৪ রানে এগিয়ে। ব্যাকফুটে ভারত। সফরকারী দলের প্রথম ইনিংসে ৪৮৯ রানের জবাবে ভারত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে তুলেছে ২০১। অর্থাৎ, তেম্বা বাভুমার দল নিয়েছে ২৮৮ রানের লিড। ফলো-অন করালে নিশ্চিতভাবেই আরও দুর্দশা বাড়ত। প্রোটিয়ারা ফের ব্যাট করতে নামায় তার থেকে রেহাই মিলেছে। তবে ভারতের ভাগ্য একইরকম দুর্ভাগাই থেকেছে। তাতে পরিবর্তন হয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ২৬ তুলে ফেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সোমবার পাঁচশোর কাছাকাছি টার্গেট ভারতকে দেওয়াই তাদের গেমপ্ল্যান। আর ঋষভ পন্থদের ব্যাটিংয়ের যা কঙ্কালদশা, তাতে এই টেস্ট ড্র করাও অসম্ভব দেখাচ্ছে। অলৌকিক কিছু ছাড়া ০-২ পরাজয়ই দেওয়াল লিখনে পরিণত।
গম্ভীরের আমলে টেস্ট থেকে অবসর নিতে বাধ্য হয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলির মতো মহাতারকারা। তাঁদের অভাব ক্রমশ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে টিম ইন্ডিয়া। আর সেজন্যই অজুহাত হিসেবে বাইশ গজের দিকে নজর ঘোরানোর প্রয়াস জারি। কুলদীপ যাদব যেমন রবিবার পিচকে ‘রাস্তা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। কিন্তু সেটাই এদিন হয়ে উঠল বিপজ্জনক। আসলে ভারতীয় বোলাররা যখন হাত ঘোরান তখন পিচকে দেখায় ব্যাটিং সহায়ক। উল্টোটাও সত্যি। ব্যাটিংয়ের সময় তা হয়ে ওঠে ভয়ানক। তৃতীয় দিনের পিচেও উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে পেসার মার্কো জানসেন হয়ে উঠলেন বিধ্বংসী। মাত্র ৪৮ রানে ছয় উইকেট নিলেন বাঁ-হাতি পেসার। ক্রমাগত বাউন্সারে ভারতীয়দের প্রাণ ওষ্ঠাগত করে তুললেন তিনি। তার আগে ব্যাটেও করে গিয়েছেন ৯৩। গম্ভীরের সাধের অলরাউন্ডাররা অবশ্য না উইকেট পান, না রান করেন! এই টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা ফেরানোই ছিল পন্থদের লক্ষ্য। কিন্তু প্রতিভাধরদের যা পারফরম্যান্স, তাতে ঘরের মাঠে আর টেস্ট খেলাই উচিত নয় ভারতের। ইডেনে সাইমন হার্মারের অফস্পিনে আত্মসমর্পণ করেছিল হোমটিম। গুয়াহাটিতে জানসেনের শর্টপিচ থিওরি’র শিকার তাঁরা। অথচ, একসময় ১ উইকেটে ৯৫ ছিল স্কোর। সেখান থেকে তাসের ঘরের মতো হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল গোটা দল। কখন যে স্কোরবোর্ড ১২২-৭ হয়ে গেল, টেরই পাওয়া গেল না!
জীবনে প্রথমবার টেস্টে নেতৃত্ব দিতে নামা পন্থ নিশ্চিতভাবে ভুলতে চাইবেন এই ম্যাচকে। জঘন্য শটে আউট তিনি। ধ্রুব জুরেলও ফিরলেন ক্ষমার অযোগ্য শটে। টেস্ট নাকি টি-২০, কী খেলছেন বোঝা দায়! সিরিজে ভারতের একমাত্র হাফ সেঞ্চুরিকারী যশস্বী জয়সওয়াল আবার গতির হেরফেরের শিকার। অষ্টম উইকেটে ওয়াশিংটন সুন্দর ও কুলদীপ যাদব ৭২ রান যোগ করতে না পারলে আরও কুৎসিত দেখাত দশা। কী আর করা যাবে, টেস্ট ক্রিকেটকে রসিকতার পর্যায়ে নামিয়ে আনলে খেসারত তো দিতেই হবে!