নয়াদিল্লি: শুল্ক-যুদ্ধে নয়াদিল্লিকে খানিকটা রেহাই দেবে আমেরিকা। ক্ষমতায় এসেই ভারতে আমদানিকৃত পণ্যে চড়া করের হার নিয়ে সরব হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২ এপ্রিল থেকে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন তিনি। এর মধ্যে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা যাচ্ছে, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে চীন, মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে ভারতকে এক বন্ধনীতে নাও রাখতে পারে আমেরিকা। দেওয়া হতে পারে বাড়তি কিছু ছাড়।
বুধবার থেকেই ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বৈঠক শুরু হয়েছে নয়াদিল্লিতে। মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা মসৃণভাবেই এগচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কোনও মতপার্থক্য সামনে আসেনি। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, নয়া বাণিজ্য ব্যবস্থা যাতে একধাক্কায় কার্যকর না হয়, সেই চেষ্টা চালাচ্ছেন ভারতীয় আধিকারিকরা। অর্থাৎ ক্ষেত্র বিশেষে ধাপে ধাপে এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চালু হওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সমঝোতা অনুসারে, আমেরিকায় যে সব ভারতীয় পণ্যের চাহিদা ও বাণিজ্যের পরিমাণ বেশি, সেগুলিতে মাঝারি হারে শুল্ক ধার্য হতে পারে। এমনটা হলে আমেরিকায় ভারতীয় রপ্তানিতে শুল্ক চাপানোর প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। আগামী তিনদিনের মধ্যেই আলোচনায় নতুন চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আলোচনা আপাতত ইতিবাচক । তবে ভারতের কাছে শুল্কে আরও ছাড় চেয়ে চাপ দিচ্ছে আমেরিকা।
ভারত ইতিমধ্যেই নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। সূত্রের খবর, আমেরিকা যে হারে শুল্ক আরোপের কথা বলেছে, তাতে ভারতের ৮৭ শতাংশ রপ্তানিতে প্রভাব ফেলবে। এজন্য ৫৫ শতাংশ মার্কিন পণ্যে কেন্দ্র শুল্ক হ্রাসের কথা কেন্দ্র ভাবছে বলে খবর মিলেছিল। তারপরই আমেরিকা পাল্টা শুল্ক থেকে ভারতীয় ব্যবসায়িক মহলকে স্বস্তি দিতেই পদক্ষেপ করার ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করছে। যদিও এই প্রস্তাব রয়েছে আলোচনা স্তরেই।