বাংলাদেশ-১ : ভারত-০
(মোর্সালিন)
বাংলাদেশ-১ : ভারত-০
(মোর্সালিন)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতীয় ফুটবলকে ঘুমন্ত দৈত্য বলেছিলেন শেপ ব্লাটার। প্রাক্তন ফিফা সভাপতির মতো আশাবাদী ছিলেন অনেকেই। কিন্তু অপদার্থ ফেডারেশনের সৌজন্যে ফুটবল এখন কোমায়। দেশে ফুটবল প্রায় বন্ধ। ১৯৬২’র এশিয়াডে সোনাজয়ী দল আন্তর্জাতিক মঞ্চেও লিলিপুট। এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে মঙ্গলবার বাংলাদেশের কাছে হারল খালিদ জামিলের ভারত। লজ্জা থাকলে বুধবার ঘুম থেকে উঠেই পদত্যাগ করা উচিত ফেডারেশন কর্তাদের। এই মুহূর্তে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের স্থান ১৩৬। আর বাংলাদেশের অবস্থান জানলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। তারা এখন ১৮৩ নম্বরে। ২২ বছর পর বাংলাদেশের কাছে এই হারের দায় তাই নিতেই হবে কোচ খালিদকে। ইগো চরিতার্থ করতে সাহাল-সুহেলদের বাদ দিয়েছিলেন জাতীয় কোচ। কালাজাদু কোচ নিজে ডুবছেন। ডোবাচ্ছেন দলকেও। এই ফুটবলের জন্য কোচের দরকার নেই। এদিন পদ্মাপাড়ে একরাশ লজ্জা উপহার দিল ব্লু টাইগার্স। পিকে, চুনী, বলরামদের বীরগাথা স্রেফ ধূসর অতীত।
সাত কিংবা আটের দশকে কিক অ্যান্ড রান নির্ভর ফুটবল খেলত পাঞ্জাবের জেসিটি। গগনে-গগনে ফুটবল এখন অচল। অথচ আদ্যিকালের স্ট্র্যাটেজিই খালিদের প্রিয়। আল্ট্রা-ডিফেন্সিভ খেলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায়। কিন্তু জিততে গেলে লক্ষ্যভেদ দরকার। গোল করবেন কে? এই ভারতীয় দলে হেডার, শ্যুটার কিছুই নেই। এদিন ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ৪-২-৩-১ ফর্মেশন দানা বাঁধার আগেই গোল হজম করে ভারত। বাংলাদেশের দ্রুততম ফুটবলার রাকিব। প্রতি-আক্রমণে স্রেফ গতিতে টপকালেন আকাশ মিশ্রকে। মাইনাস ফলো করে জাল কাঁপান মোর্সালিন (১-০)। এগিয়ে এসেও কেন থমকালেন গুরপ্রীত? মেগা ম্যাচে মারাত্মক ভুল করার তাঁর পুরোনো অভ্যাস এদিনও ডোবালো। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে ছাংতে, বিক্রমরা ঝাঁঝ বাড়ালেও কাজের কাজ হয়নি। একটি ক্ষেত্রে ছাংতের শট প্রায় গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন হামজা চৌধুরি। তিনিই বাংলাদেশের ব্যান্ডমাস্টার। এমন লিডার যে কোনও দলের সম্পদ। অতীতে বাইচুং, দীপকরা দায়িত্ব নিতে জানতেন। কিন্তু খালিদের স্কোয়াড নিম্নমানের ফুটবলারে ভরা। এই দলের নেই কোনও ডিস্ট্রিবিউশন। মাঝমাঠে প্লে-মেকারের অভাব চোখে পড়ল বারবার। লম্বা থ্রো কিংবা লং বলের স্ট্র্যাটেজিতে নেই কোনও চমক।
দ্বিতীয়ার্ধে সানান, মহেশ, ব্রাইসনদের নামিয়ে প্রায়শ্চিত্তের চেষ্টায় ছিলেন খালিদ। ততক্ষণে ম্যাচ হাতের বাইরে। হামজা চৌধুরির নেতৃত্বে ইট-বালির দেওয়াল তৈরি করে ফেলেছে বাংলাদেশ। গতি, ফিটনেস, আবেগ-সবেতেই টেক্কা দিলেন হামজারা। আর ভারতীয় ফুটবলাররা? দু’পকেটে হতাশা নিয়েই দেশে ফিরবেন তাঁরা।
ভারত: গুরপ্রীত, ভেকে, আনোয়ার, সন্দেশ, আকাশ, সুরেশ (ফানাই), নিখিল (মহেশ), বিক্রম প্রতাপ, নিকসন (ব্রাইসন), ছাংতে (সানান) ও রহিম (এডমুন্ড)।