অনুভব সেনগুপ্ত, ৬ অক্টোবর: ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে কলকাতার সল্টলেক যুবভারতী স্টেডিয়ামে ভারতকে ৬-১ গোলের ব্যবধানে হারাল উরুগুয়ে। স্কোরবোর্ড দেখলে ভারত উরুগুয়ে ম্যাচের সঠিক মূল্যায়ন বোধহয় সম্ভব নয়। ম্যাচের ফলাফল ৬-১ গোলের হলেও গোটা ম্যাচ রীতিমতো বুক চিতিয়ে লড়াই করলেন ভারতীয় ফুটবলাররা। প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে ধারে ভারে ভারতের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে কুড়িতে থাকাই শুধু নয় দলের সদ্য বিশ্বকাপ খেলে আসা বেশ কিছু ফুটবলার ছিলেন তাঁদের সঙ্গে। তারপরও নিজেদের সাধ্যমত লড়াই করলেন অভিষেক, আনোয়ার, অনিরুদ্ধ থাপারা। প্রথম থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে ভারতীয়রা। দুই দলের আক্রমণ প্রতি আক্রমণে জমজমাট হয়ে ওঠে ম্যাচ। ম্যাচের ১০ মিনিটে উরুগুয়ের প্লেয়ারকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন অনিরুদ্ধ থাপা। পেনাল্টি থেকে উরুগুয়েকে এগিয়ে দেন সদ্য বিশ্বকাপ খেলে আসা নুনেজ। এরপর আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায় ভারত। ফলও মেলে হাতে নাতে।
ম্যাচের ২২ মিনিটে মাঝপাঠ থেকে বল নিয়ে বিপক্ষের ডিফেন্ডারদের টপকে উরুগুয়ের বক্সে ঢুকে জোরালো শট নেন রায়ান উইলিয়ামস। কোনোক্রমে উরুগুয়ের গোলরক্ষক কার্ডোজো বল ফিস্ট করলে সামনে থাকা অনিরুদ্ধ চাপার পায়ের সামনে এসে পড়ে বল। গোল করতে কোনোরকম ভুল করেননি অনিরুদ্ধ। সমতা ফেরানোর পর বিশ্বমানের টক্কর দিতে শুরু করে ভারত। কিন্তু ২৮ মিনিটে প্রতি আক্রমণে উরুগুয়েকে গোল করে এগিয়ে দেন এম আরাউজো। আকাশে তখন কালো মেঘ এবং ঘনঘন বাজ পড়ছে। যার ফলে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হন রেফারি। প্রায় ৩৮ মিনিট বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হয় খেলা। এরপর শুরু হয় ভারতের গোল খাওয়ার পালা। ব্রাজিল ম্যাচের পর এই ম্যাচেও দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে তিনটি গোল হজম করতে হয় গুরপ্রীতদের। পরিস্থিতি এমন হয় স্টেডিয়াম জুড়ে গো ব্যাক গুরপ্রীত স্লোগানও উঠে। শেষে তাঁকে তুলে নিয়ে আলবিনা গোমসকে নামাতে বাধ্য হন ভারতের কোচ খালিদ জামিল। এরপর উরুগুয়ের হয়ে বাকি গোলগুলি করেন ম্যাক্সিমিলানো, জানাজার সানাব্রিয়া এবং অ্যাগুয়েরে।