দেবজিত্ ঘোষ: লজ্জা শব্দটা ফেডারেশনের অভিধানে নেই। থাকলে, মঙ্গলবার রাতেই সদলবলে পদত্যাগ করতেন কর্তারা। হংকংয়ের কাছেও হার। অন্ধকারে তলাচ্ছে ভারতীয় ফুটবল। ফেডারেশন নির্বিকার। মান, অপমানের বালাই নেই। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, কাদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত। প্রাক্তন ফুটবলার হিসাবে একটাই অনুরোধ, দোহাই ফুটবলকে হত্যা করবেন না। অনেক হয়েছে, এবার থামুন। হাল ফেরাতে ভারতীয় কোচের হাতেই জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া হোক। সঞ্জয় সেন, খালিদ জামিলরা যথেষ্ট যোগ্য। এর চেয়ে খারাপ কোচিং করাবেন না। ভারতীয় ফুটবল বাঁচাতে এটাই একমাত্র পথ। সঞ্জয় ক্লাব ফুটবলে সফল। প্রো-লাইসেন্স ডিগ্রিও অর্জন করেছেন। সন্তোষ ট্রফি জয়ী বাংলা দলের কোচ। পাশাপাশি খালিদ জামিলও হাতের তালুর মতো চেনেন সবকিছু। আর কবে সুযোগ দেওয়া হবে তাঁদের? আসলে বিদেশি কোচ দেখলেই নোলা ঝরে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার। কোনওরকমে দায়িত্ব দিয়েই খালাস। তারপর মাস গেলে লাফিয়ে লাফিয়ে ব্যাঙ্ক ব্যালান্স বাড়বে। দায়বদ্ধতার কোনও ব্যাপারই নেই।
বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্যে ঘটা করে ‘ভিশন ২০৪৭’ প্রকাশ করেছে ফেডারেশন। তা আসলে স্রেফ গিমিক। অহেতুক কুমির ছানা দেখানো। সাঁতার জানা নেই। অথচ ইংলিশ চ্যানেল পেরেনোর শখ। গোটা সিস্টেম ভুলে ভরা। প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিত এশিয়ান স্তরে ভালো ফল করা। তার বদলে সস্তার প্রচার আর ঢক্কানিনাদ। কোচেস কমিটি ছাড়াও কিংবদন্তি ফুটবলাররা ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের ভূমিকা নিয়েও একগাদা প্রশ্ন। এমন বিপর্যয়েও তাঁরা নীরব কেন?
ব্যর্থ ফেডারেশন। ডাহা ফেল টিম ম্যানেজমেন্ট। দায় এড়াতে পারে না ফুটবলাররা। ভারতের জার্সি পরে মাঠে নামাটাই গর্বের। স্টেডিয়ামে জাতীয় সঙ্গীত চলার সময় গায়ে কাঁটা দেয়। অথচ এই দলের কোনও মোটিভেশন নেই। অবসর নেওয়া সুনীলকে ফিরিয়ে আনার যুক্তি আছে কি? অনিচ্ছুক ঘোড়াদের জল খাওয়ানো অসম্ভব। তাঁরা আইএসএল নিয়েই থাকুক। সারা বছর গ্ল্যামার লিগ ছাড়া মাঠে নামে না কেউ। সুপার সিক্সে উঠতে না পারলে আরও ভালো। ম্যাচ খেলার প্রয়োজন নেই। ডুরান্ড, সুপার কাপে দ্বিতীয় সারির দল খেলানোই ট্রেন্ড। ওটাই ফ্যাশন। এইসবই নাকি প্রি-সিজন টুর্নামেন্ট। ক্লাব ফুটবলে বেশিরভাগ টুর্নামেন্ট বন্ধ। সবাই নির্বিকার। কারও কিছুই যায় আসে না। এবার বরং খোলনলচে বদলে নতুন মুখ বেছে নিতে হবে। খেলার খিদে রয়েছে এমন ফুটবলার বাছাই করা হোক। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগতে হবে। আর বিশেষ জোর দেওয়া হোক জুনিয়র ফুটবলারদের দিকে। তাতে আখেরে লাভ হবে ভারতীয় ফুটবলেরই।