নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গরিবি হটানোয় মোদি সরকারের ঢালাও প্রশংসার পাশাপাশি ভারতকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি বলে আখ্যা দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। সোমবার নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একথা বলেন। একই সঙ্গে বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকারের সময়কালকে নতুন ভোর এবং নতুন যুগের সূচনাও বলেন।
ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মাথায় রাখতে হবে, ২০১৪ সালের পর থেকে এই ভারতে ২৫ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র থেকে মুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পৃথিবীতে এটা আগে হয়নি। ওই সময়ের আগে ভারত বিশ্বের একাদশতম অর্থনীতি ছিল। এখন চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, এই সময়কালে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্প ও বাণিজ্য সমস্ত ক্ষেত্রেই উন্নত হয়েছে ভারত। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন সমাবর্তন না হওয়ার জন্য বিগত তৃণমূলের সরকারেরও নাম না করে সমালোচনা করেন তিনি। তবে, রাজ্যপালের করা মোদি সরকারের ভূয়সী প্রশংসার মধ্যেও একটি প্রশ্ন তুলছে ওয়াকিবহাল মহল। সত্যিই কি ভারত এখন চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি? বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত স্বল্প সময়ের জন্য চতুর্থ অর্থনীতি হলেও ডলারের বিনিময় মূল্য প্রভৃতি ফ্যাক্টরের জন্য নেমে এখন ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। তাই, এই তথ্য কতটা ঠিক, সেই প্রশ্ন উঠছে।
অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যপালের নির্দেশে আমরা দু’মাসের মধ্যে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন আয়োজন করব। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আগের সরকারের অব্যবস্থা কাটিয়ে উন্নয়নের কাজ শুরু করতে নতুন সরকারের এক বছর সময় লাগবে। তিনি এও জানিয়েছেন, সমস্ত পড়ুয়া কলেজ আসতে শুরু করলেই ছাত্র নির্বাচন হবে। রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছ’বছর বাদে সমাবর্তন হল। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, আইআইটি খড়্গপুরের অধিকর্তা সুমন চক্রবর্তী এবং রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দেবব্রত মিত্র প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ১৯৮ জনকে পিএইচ ডি এবং ৩১ জনকে এম ফিলের শংসাপত্র দেওয়া হয়। এছাড়াও ১৯১টি বিভাগে প্রথম হওয়া ছাত্রছাত্রীদেরও স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।