নয়াদিল্লি: ট্রাম্প-ট্যারিফ অবৈধ! ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর বেআইনিভাবেই শুল্কের বোঝা চাপিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার এমনই রায় দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অতিরিক্ত আমদানি শুল্কের অধিকাংশই বাতিল করা হয়েছে। যদিও শীর্ষ আদালতের এই রায়ে ব্যাপক চটেছেন ট্রাম্প। ঘনিষ্ঠ মহলে সাফ জানিয়েছেন, এই রায় মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর সরকার বিকল্প উপায়ের সন্ধান করছে। কয়েক ঘণ্টা পরেই সাংবাদিক সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে আরও ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারা ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। শুক্রবারই এসংক্রান্ত নয়া নির্দেশিকায় স্বাক্ষর করার কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে জানান, ভারতের উপর চাপানো শুল্কে কোনো হেরফের হচ্ছে না। অর্থাৎ, নয়াদিল্লিকে ১৮ শতাংশ শুল্কই দিতে হবে।
এদিন মার্কিন শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে এব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, তা সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করেছে। এই ধরনের কর বা শুল্ক নির্ধারণের মূল ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। জাতীয় নিরাপত্তা বা জরুরি পরিস্থিতির যুক্তি দেখিয়ে এই ধরনের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত আদপে ক্ষমতার অপব্যবহার। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের পর্যবেক্ষণ, ‘বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে যুদ্ধ করছে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।’ যদিও এই রায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে আসেনি। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে বেআইনি আখ্যা দেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ছ’জন বিচারপতি। তিন জন ভিন্নমত পোষণ করেন। শেষমেশ ৬-৩ ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির রায় বহাল থাকে।
ভারতের উপর পালটা শুল্ক ও রাশিয়া থেকে তেল কেনার জরিমানা হিসাবে মোট ৫০ শতাংশ আমদানি কর বসিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে অবশ্য বাণিজ্যচুক্তি হওয়ার কথা ঘোষণা করে, শুল্কের পরিমাণ তিনি ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, মার্কিন শীর্ষ আদালতের রায়ের পর অধিকাংশ ভারতীয় পণ্যে ১৮ শতাংশ মার্কিন আমদানি শুল্ক উঠে যাবে। পরে অবশ্য শুল্ক অপরিবর্তিত রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন ট্রাম্প। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতীয় পণ্য রপ্তাানিকারী সংস্থাগুলি। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনসের সভাপতি এসসি রলহান বলেন, ‘মার্কিন শীর্ষ আদালতের এই রায়ে স্বস্তি পেলেন ভারতীয় রপ্তানিকারীরা। এর মাধ্যমে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।’ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে সামগ্রিকভাবে চাপ বেড়েছিল বাজারে। মার্কিন উপভোক্তাদের জন্যও আমদানিকৃত পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দেয়। তাতেই ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী সংগঠন, শিল্পপতিরা এই শুল্ক চাপানোর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন।