কলম্বো: বাইশ গজে ফের পাক বধ। দুবাইয়ে এশিয়া কাপে সূর্যকুমার যাদবরা টানা তিনবার হারিয়েছিলেন পাকিস্তানকে। মহিলাদের ওডিআই বিশ্বকাপেও সেই ধারা বজায় রাখলেন হরমনপ্রীত কাউররা। রবিবার প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে ৮৮ রানে পাকিস্তানকে হারানো চিহ্নিত হচ্ছে আরও এক ‘অপারেশন সিন্দুর’ হিসেবে। প্রবল পরাক্রমেই ফতিমা সানাদের গালে চড় কষালেন রিচা-স্মৃতিরা। আসলে পুরুষ হোক বা মহিলাদের লড়াই, ব্যাট-বলের খেলায় সবুজ জার্সিধারীদের দুরমুশ করাকেই অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে ভারত। পাশাপাশি, বড়সড় ব্যবধানের এই জয়ে অনেক বেড়ে গেল দলের নেট রান-রেটও।
ভারতের পরের ম্যাচ বৃহস্পতিবার বিশাখাপত্তনমে। উল্টোদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা। কলম্বো থেকে দীপ্তি শর্মা, ক্রান্তি গৌড়রা সরাসরি সেখানে পৌঁছবেন। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে তাঁদের সঙ্গী হচ্ছে পাকিস্তানকে নাস্তানাবুদ করে হারানোর আত্মবিশ্বাস। ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত বলেছেন, ‘এই জয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টির জন্য পিচ ঢাকা থাকার ফলে শুরুতে বল পড়ে থেমে আসছিল। তাই ব্যাটিং মোটেই সহজ ছিল না। চেয়েছিলাম হাতে উইকেট রাখতে। শেষের দিকে রিচার ব্যাটে ৩৫ রান অত্যন্ত মূল্যবান। বোলিংও দুর্দান্ত হয়েছে। বেশ কিছু ক্যাচ পড়লেও সার্বিকভাবে খুশি। এই ছন্দই ধরে রাখতে হবে পরের ম্যাচগুলিতে। জানি, ঘরের মাঠে কেমন পিচ আমরা পাব। সেই মতো কম্বিনেশন সাজাব।’
পাঁচ মাসও হয়নি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছেন ক্রান্তি। কিন্তু অল্প সময়েই নজর কেড়েছেন ২২ বছর বয়সি মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ডের পেসার। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের অন্যতম কাণ্ডারি তিনি। গত ১১ মে এই মাঠেই অভিষেক হয়েছিল ক্রান্তির। সেই তিনিই ভারত-পাক মহারণে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার পেলেন। ক্রান্তির গলায় তাই আবেগ, ‘এটা আমার ও আমার পরিবারের কাছে গর্বের মুহূর্ত। আমার গ্রামের কথা মনে পড়ছে। শুনলাম, ওরা বড় পর্দা টাঙিয়ে খেলা দেখেছে।’ বলের গতি বাড়ানোই এখন তাঁর পাখির চোখ। ক্রান্তি বলেছেন, ‘লাইন-লেংথে ধারাবাহিক থাকাই লক্ষ্য ছিল। খুব বেশি পরীক্ষা নিরীক্ষার পথে হাঁটিনি। তবে আরও জোরে বল করতে চাই।’
মিডল অর্ডার ব্যাটার জেমাইমা রডরিগেজ আবার টিম স্পিরিটের কথা শুনিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘এই দলের সবাই একে অন্যের সাফল্যে আনন্দ পায়। শিবিরের আবহ অসাধারণ। বাইরের কথাবার্তায় কেউ কান দেয় না।’ ভারতে মহিলা ক্রিকেটের প্রসারের জন্যই কাপ জিততে মরিয়া তিনি। জেমাইমা বলেছেন, ‘আমি যখন প্রথমবার ভারতীয় দলে ডাক পাই, তখন মিতালিদি আর ঝুলনদি ছিল সিনিয়র। এখন হরমনপ্রীতদি এবং স্মৃতি এগিয়ে নিয়ে চলেছে দলকে। ওরা এমনভাবে দল চালাচ্ছে যে, প্রত্যেকেই সেরাটা উজাড় করে দিতে বদ্ধপরিকর। আমরা মিতালিদি, ঝুলনদির জন্য বিশ্বকাপ জিততে চাই।’ তাঁর মুখেও শোনা গিয়েছে রিচার প্রশংসা, ‘সবাই ব্যাট হাতে অবদান রেখেছে। তবে ইনিংসের শেষদিকে, রিচার ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং আমাদের জেতার মতো স্কোরে পৌঁছে দিয়েছিল।’