আমেদাবাদ: কাপযুদ্ধের চলতি আসরে তিন ম্যাচেই প্রথমে ব্যাট করেছে ভারত। কিন্তু সর্বোচ্চ স্কোর আটকে রয়েছে ২০৯ রানেই। অথচ, সাম্প্রতিক অতীতে আড়াইশোর ধারেকাছে তোলাই নিয়মে পরিণত হয়েছিল। এর প্রথম কারণ অবশ্যই পিচের মন্থরতা। আর দ্বিতীয় কারণ অভিষেক শর্মার নিষ্প্রভ থাকা। বুধবার মোতেরায় নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে নিয়মরক্ষার ম্যাচে টিম ইন্ডিয়ার ফোকাস থাকছে এতেই। বড় স্কোর খাড়া করা এবং অভিষেককে চেনা ধুন্ধুমার মেজাজে দেখা। যাতে সুপার এইটের যুদ্ধে নামার আগে আত্মবিশ্বাস চড়া সুরে বাঁধা থাকে। সুবিধা হল, মোতেরাতেই এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপের সর্বাধিক রান (২১৩-৪) উঠেছে। কানাডার বিরুদ্ধে যা তুলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে এখানে শেষ দুই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে দুশোও ওঠেনি।
মুশকিল হল, গত সাত ইনিংসের চারটিতেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন অভিষেক। এরমধ্যে গত দুটো ম্যাচেই খাতা খুলতে পারেননি বাঁ-হাতি ওপেনার। আমেরিকা ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার মাঝে তিনি অবশ্য পেটের সমস্যায় ভুগে হাসপাতালেও ভরতি হয়েছেন। পাকিস্তান ক্যাপ্টেন সলমান আগা যেভাবে প্রথম ওভারেই অভিষেককে আউট করেছিলেন, তার থেকে শিক্ষা নিয়ে অফ স্পিনার আরিয়ান দত্তকে পাওয়ার প্লে’র মধ্যে আনতে পারে নেদারল্যান্ডস। ২৫ বছর বয়সির জন্য ডিপ কভার ও ডিপ মিড উইকেটে ফিল্ডার রেখে আক্রমণ শানানোর সম্ভাবনাও যথেষ্ট।
ভারতের প্রথম এগারোয় পরিবর্তনের সম্ভাবনা অবশ্য রয়েছে। যশপ্রীত বুমরাহকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে বলে খবর ভাসছে। এমনিতেও তাঁর ওয়ার্কলোড নিয়ে সতর্ক থাকে টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে সহকারী কোচ সীতাংশু কোটাক সেই সম্ভাবনায় জল ঢেলেছেন। বলেছেন, ‘মনে হয় না বুমরাহকে বিশ্রাম দেওয়া হবে। তবে আমরা সেই বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি।’ ভারতীয় স্কোয়াডে একমাত্র ওয়াশিংটন সুন্দর বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচে খেলেননি। তাঁকে এই ম্যাচে খেলানো হতেই পারে। কুলদীপ যাদবের জায়গায় এগারোয় ফিরতে পারেন অর্শদীপ সিংও।
নেদারল্যান্ডস তিনটি ম্যাচের মধ্যে জিতেছে একটিতে। তবে শেষ ম্যাচে আমেরিকার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছেন স্কট এডওয়ার্ডসরা। ভারতের বিরুদ্ধে এই ম্যাচ তাঁদের কাছে অনেকটাই স্বপ্নপূরণের মতো। তবে টিম ইন্ডিয়া হালকাভাবে নিচ্ছে না বিপক্ষকে। কোটাকের মতে, ‘প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছে যে কোনও দল অন্যকে হারানোর ক্ষমতা ধরে। তাই প্রতিটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ।’ পরিষ্কার, পাকিস্তানকে দুরমুশ করার পর আত্মতুষ্টি যাতে শিবিরে বাসা না বাঁধে সেদিকে সতর্ক সূর্যকুমার যাদব ব্রিগেড। তবে অনুশীলনে ফুরফুরে ভাব ধরা পড়ল সবার মধ্যেই। কোচ গৌতম গম্ভীরকে দেখা গেল বরুণ চক্রবর্তী, সুন্দরদের সঙ্গে মাঠেই বসে আলোচনা সারতে। তাঁর পাশে তখন দলের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডয়েসকাটে। যিনি অতীতে নেদারল্যান্ডসের ক্যাপ্টেনও ছিলেন। এই ম্যাচের স্ট্র্যাটেজিতে ডয়েসকাটের পরামর্শ সেজন্যই গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য এই মুহূর্তে সূর্যদের যা গনগনে মেজাজে দেখাচ্ছে, তাতে সবরমতীর পাড়ে অনায়াস জয়ই অপেক্ষা করা উচিত। অবশ্য শুধু জেতা নয়, রবিবারের দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের আগে মোতেরার কন্ডিশনের সঙ্গে সড়গড় হওয়াও জরুরি।
ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৭টায়। সরাসরি সম্প্রচার
স্টার স্পোর্টস ও জিওহটস্টারে।