ম্যাঞ্চেস্টার: সকাল থেকেই মুখ ভার আকাশের। দুপুর গড়াতে নামল বৃষ্টি। বাধ্য হয়েই ইনডোরেই গা ঘামালেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। বৃষ্টি থামতেই সটান মাঠে হাজির সাই সুদর্শন। কভারের উপর দাঁড়িয়ে মূল পিচের সামনে শ্যাডো প্র্যাকটিস করতে দেখা গেল তাঁকে। ইঙ্গিত স্পষ্ট, তিনি হয়তো খেলবেন ওল্ড ট্রাফোর্ডে চতুর্থ টেস্টে। সম্ভবত নীতীশ রেড্ডির জায়গায়।
বুধবার শুরু হতে চলা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মরণ-বাঁচন টেস্টে ভারতীয় দলে আরও কয়েকটি চমক থাকতে পারে। ক্যাপ্টেন গিল ম্যাচের চব্বিশ ঘণ্টা আগে স্পষ্ট করে দিলেন, অংশুল কম্বোজ ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া হবে। প্রসিদ্ধ ইতিমধ্যেই পরীক্ষিত। তিনি প্রচুর রান দিচ্ছেন। তাই কম্বোজের অভিষেকের প্রহর গুনছে ক্রিকেট দুনিয়া। হরিয়ানার তরুণ পেসারের বলে গতি আছে। ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে ভালো পারফর্ম করেছিলেন। ব্যাটের হাতও খারাপ নয়। সেই অঙ্কেই এগিয়ে কম্বোজ।
তবে টানা ছ’টা ইনিংসে ব্যর্থতার পরেও করুণ নায়ারের প্রতি ক্যাপ্টেন ও কোচের অগাধ আস্থা দেখে বিস্মিত অনেকেই। একটাও হাফ-সেঞ্চুরি নেই। সর্বাধিক রান ৪০। তাও কিনা তিন নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্ডারে নেমে। ক্যাপ্টেন গিল সাংবাদিক সম্মেলনে বললেন, ‘করুণ নায়ারের উপর আমাদের আস্থা রয়েছে। আশা করছি ও ঘুরে দাঁড়াবে।’ আসলে আশায় মরে চাষা। গিলের অবস্থাও তাই। কিন্তু নায়ার যদি এতগুলো সুযোগ পান, তাহলে কী দোষ করলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ?
টিম ইন্ডিয়ার টপ অর্ডার মোটামুটি একই থাকছে। ওপেনিং জুটিতে বাঁ হাতি যশস্বীর সঙ্গে দুরন্ত ফর্মে থাকা লোকেশ রাহুল। চারে ক্যাপ্টেন গিল। চলতি সিরিজে ইতিমধ্যেই একটি ডাবল সেঞ্চুরি সহ দু’টি শতরান হাঁকিয়েছেন তিনি। সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে তাঁর ব্যাটের দিকেই তাকিয়ে ভারতীয় সমর্থকরা। গিল দাঁড়িয়ে যাওয়া মানে ইংল্যান্ডের বোলারদের কম্পন শুরু। ঋষভ পন্থও ফিট। তিনিই উইকেটরক্ষার দায়িত্বে। আসলে চলতি সিরিজে দুই দলের মধ্যে ফারাক খুব বেশি চোখে পড়েনি। কখনও কখনও মনে হয়েছে, টিম ইন্ডিয়াই এগিয়ে। লর্ডসেও জেতার সুযোগ ছিল। কিন্তু ভাগ্য সাথ দেয়নি। ২২ রানে হার, সিরাজের প্লেড-অন— হৃদয়বিদারক এক উপাখ্যানের সাক্ষী থেকেছিল ক্রিকেট দুনিয়া। টেল এন্ডারদের নিয়ে জাদেজার লড়াই ছিল কুর্নিশ করার মতো। তবে সেই ধাক্কা কাটিয়ে ভারতীয় দল ঘুরে দাঁড়াতে সংকল্পবদ্ধ। এই ইংল্যান্ড দলকে হারানো অসম্ভব নয়। আর তা এজবাস্টনে প্রমাণিত। ৮৯ বছরের ইতিহাসে ওল্ড ট্রাফোর্ডে টেস্ট জিততে পারেনি ভারত। গিলরা কি পারবেন? সময় দেবে উত্তর। মনে রাখতে হবে, টেস্ট জিততে গেলে দরকার বিপক্ষের ২০টা উইকেট। তাই বোলিং যত শক্তিশালী হবে, জেতার সম্ভাবনা বাড়বে। সেই কারণে বুমরাহর ওয়ার্কলোড কমানোর সিদ্ধান্ত আপাতত হিমঘরে। সিরাজের সঙ্গী হবেন বুমরাহ। কারণ, ডাকেট, রুট, পোপদের দ্রুত ফেরাতে এই পেস জুটির ভূমিকা হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাচ শুরু বিকেল ৩-৩০ মিনিটে।
সোনি স্পোর্টস এবং জিওহটস্টারে সম্প্রচার।