হংকং- ১ (স্তেফান-পেনাল্টি) : ভারত-০
হংকং- ১ (স্তেফান-পেনাল্টি) : ভারত-০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নামেই ব্লু টাইগার্স। আসলে কাগুজে বাঘ। কাককে রঙিন পালক পরালেই ময়ূর হয় না। ভারতীয় ফুটবলের একই দশা। এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের ম্যাচে ১৫৩ ফিফা র্যাঙ্কিয়ে থাকা হংকংয়ের কাছে ১-০ গোলে হারল ভারত। সংযোজিত সময়ে পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোল স্তেফান পেরেরার। তিন বছর আগে যুবভারতীতে এই হংকংকে ৪-০ ব্যবধানে বশ মানিয়েছিল ভারত। এদিন ঘরের মাঠে সুদে-আসলে শোধ তুলল অ্যাশলে ওয়েস্টউডের দল। এই হারের পর গ্রুপে ২ ম্যাচে সুনীলদের প্রাপ্তি মাত্র ১ পয়েন্ট। উল্লেখ্য, প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে ভারত। অন্য ম্যাচে বাংলাদেশকে ২-১ গোলে হারাল সিঙ্গাপুর।
জিততে গেলে গোল চাই। এই ভারতীয় দলে টর্চ জ্বেলেও স্কোরার খুঁজে পাওয়া যায় না। অবসর ভাঙিয়ে সুনীল ছেত্রীকে ফেরালেও তিনি অতীতের ছায়া। নতুন করে কিছুই দেওয়ার নেই। এদিন কিছুটা বাধ্য হয়েই তাঁকে বেঞ্চে রেখে দল সাজান মানোলো। ৪-৫-১ ফর্মেশনে ডাবল পিভট আপুইয়া ও সুরেশ। তাতে মাঝমাঠ কিছুটা সচল হলেও আক্রমণের দফারফা। সিঙ্গল স্ট্রাইকার হিসাবে আশিক কুরুনিয়ানকে খেলানোর সিদ্ধান্ত এককথায় হাস্যকর। দিশাহীন দৌড় ছাড়া আশিকের অবদান শূন্য। ৩৪ মিনিটে প্রথমার্ধের সহজতম সুযোগও নষ্ট করলেন। এক্ষেত্রে বাঁ প্রান্ত থেকে এক ডিফেন্ডারকে টলিয়ে দুরন্ত মাইনাস করেছিলেন লিস্টন কোলাসো। সামনে প্রতিপক্ষের অসহায় গোলরক্ষক। ডান পায়ে টোকা দিলেই গোল। সবাইকে অবাক করে বাঁ পায়ে শট মারতে গিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন আশিক।
বেগতিক বুঝে দ্বিতীয়ার্ধে একে একে সুনীল, নাওরেমদের নামালেন মানোলো মার্কুয়েজ। তাতেও পরিস্থিতি বদলায়নি। ৮০ মিনিটে প্রতিপক্ষ বক্সের মধ্যে সুনীল ছোট্ট টোকায় পাস দেন লিস্টনকে। তিনকাঠিতে রাখার বদলে আকাশে বল ওড়ালেন গোয়ানিজ ফুটবলার। পরের মিনিটেই সুযোগ চলে এসেছিল সুনীলের কাছে। এক্ষেত্রে ছাংতের মাইনাস গোলে পাঠাতে ব্যর্থ চল্লিশের সুনীল। অন্যদিকে তক্কে তক্কে ছিলেন অ্যাশলে। ভারতীয় ফুটবল হাতের তালুর মতো চেনেন তিনি। দীর্ঘদিন সামলেছেন বেঙ্গালুরু এফসি’র দায়িত্ব। তারপর আফগানিস্তানের কোচ হিসাবেও পরাস্ত করেন ভারতকে। এদিন প্রতি-আক্রমণে ফসল তুললেন তিনি। বক্সের মধ্যে বল গ্রিপ করার বদলে প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকারের গায়ে ঝাঁপালেন বিশাল। তাঁর ভুলেই পেনাল্টি পায় হংকং। স্পটকিক কাজে লাগাতে ভুল করেননি স্তেফান পেরেরা (১-০)। নবনির্মিত কাই তাক স্টেডিয়ামে এরপরেই উৎসব শুরু ৫০ হাজার দর্শকের। মানোলো ব্রিগেডে তখন শ্মশানের স্তব্ধতা।
ভারত: বিশাল, আশিস (বরিস), সন্দেশ, আনোয়ার, অভিষেক, আপুইয়া, সুরেশ, লিস্টন, ব্রেন্ডন (মহেশ) ছাংতে (ভেকে) ও আশিক (সুনীল)।