Bartaman Logo
৮ জুলাই, ২০২৬

তিস্তা প্রকল্প ঘিরে বাংলাদেশে চীনের গতিবিধি বৃদ্ধির আশঙ্কা, উদ্বিগ্ন ভারত

বাংলাদেশে তিস্তা প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত। শিলিগুড়ি করিডরের নিকটবর্তী অবস্থান ভারতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

তিস্তা প্রকল্প ঘিরে বাংলাদেশে চীনের গতিবিধি বৃদ্ধির আশঙ্কা, উদ্বিগ্ন ভারত
  • ৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দুই দেশ তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি)-এর সম্ভাব্য সমীক্ষা পরিচালনার লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বৃহত্তর পরিসরে পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশে তিস্তা নদীর অববাহিকা অঞ্চলের পুনর্গঠনের এই পরিকল্পনা ঢাকা ও বেজিংয়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পনা নয়াদিল্লির উদ্বেগ বাড়াতে পারে। কারণ, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ভারতের কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডরের নাকের ডগায় অবস্থিত। 

Advertisement

কৌশলগত বিষয় ও জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তারা কারথার মতে, মোদ্দা কথা হল, তিস্তা নদী আমাদের সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গিয়েছে এবং কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডরের ঠিক পাশেই অবস্থিত। প্রস্তাবিত এই প্রকল্প নিঃসন্দেহে বেজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব তুলে ধরছে। ঘটনাচক্রে, তিস্তা প্রকল্পের ঘোষণা ২০২০ সালে হলেও এটি পরিকল্পনা পর্যায়েই সীমাবদ্ধ ছিল। মূলত অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলে চীনের মদতপুষ্ট বড় প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কারণে চূড়ান্ত অনুমোদন আটকে রেখেছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারণ, ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভারসাম্য বিঘ্নিত হোক, তা তিনি চাননি। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিএনপি সরকারের সর্বশেষ চুক্তিটি তিস্তায় বেজিংয়ের দীর্ঘদিনের আগ্রহকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। আপাতত এটি সমীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও ভারতের ‘চিকেনস নেকে’র কাছে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পে চীনের বৃহত্তর স্বার্থসিদ্ধির পথ প্রশস্ত করতে পারে এই প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থার কারণে এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ‘পাওয়ারচায়না’ কোনো বেসরকারি, বিচ্ছিন্ন ঠিকাদার নয়। বরং এটি একটি বিশাল সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, যার প্রাতিষ্ঠানিক ও কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলি চীনের সামরিক-অসামরিক সংমিশ্রণ মতবাদ এবং কমিউনিস্ট পার্টির বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিকল্পনা সংক্রান্ত চীন-বাংলাদেশ চুক্তি নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বিগ্ন হওয়ার পর্যাপ্ত কারণ রয়েছে। ভারতের উদ্বেগের মূল কারণ ভৌগোলিক নৈকট্য। বাংলাদেশের এই প্রস্তাবিত প্রকল্পটি নীলফামারি ও রংপুর অঞ্চলে হওয়ার কথা। এটি জলপাইগুড়ি জেলার ঠিক পাশেই অবস্থিত। কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডরের কাছেই সম্ভাব্য চীনা গতিবিধি চিন্তা বাড়াচ্ছে ভারতের। এই এলাকায় যেকোনো ধরনের বৈদেশিক শত্রুতার আশঙ্কা বা প্রতিকূল পরিস্থিতি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাকি ভারতের অখণ্ডতার প্রশ্নে বড় বিপদ হয়ে উঠতে পারে। এই সংবেদনশীল ও সংকীর্ণ সীমান্ত অঞ্চলের এত কাছে বিপুল সংখ্যক চীনা প্রযুক্তিবিদ, কারিগরি কর্মী মোতায়েন করা হলে স্বাভাবিকভাবেই ভারতের জন্য তা বড়ো ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ