Bartaman Logo
৮ জুলাই, ২০২৬

প্রবল বৃষ্টিতে ফের ভূমিধস ওয়েনাড়ে, মৃত অন্তত ৩

কেরলের ওয়েনাড়ে প্রবল বৃষ্টিতে ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। আহত ১০, নিখোঁজ ৫। উদ্ধারকাজ চলছে। বিস্তারিত পড়ুন।

প্রবল বৃষ্টিতে ফের ভূমিধস ওয়েনাড়ে, মৃত অন্তত ৩
  • ৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

তিরুবনন্তপুরম: ফিরল ২০২৪ সালের ভয়াবহ স্মৃতি। প্রবল বৃষ্টিতে ফের ভূমিধসের কবলে কেরলের ওয়েনাড়। মঙ্গলবার কাল্লাডিতে সুড়ঙ্গের কাজ চলাকালীন এই বিপর্যয়ে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত কমপক্ষে দশজন। নিখোঁজ পাঁচ। জোর কদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন। দুই মন্ত্রীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। 

Advertisement

মীনাক্ষী সেতুর কাছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। মলপ্পুরম ও ওয়েনাড়কে সংযুক্ত করতে সেখানে সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজ চলছিল। তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজ শুরু করে কালপেট্টার প্রশাসন। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থলের কাছে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও হোমস্টে রয়েছে। সেগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়। নিকটবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালে ভয়াবহ ভূমিধসের কবলে পড়েছিল এই মেপ্পাডি পঞ্চায়েতের মুন্ডাক্কাই-চুরালমালা অঞ্চল। মৃত্যু হয় ২৫০ জনের। দু’বছর পর ফের একই ঘটনার সাক্ষী থাকল মেপ্পাডি। প্রশাসন সূত্রে খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় ওয়েনাড়ে ২৫৬ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, টানা বৃষ্টির জেরেই এই বিপত্তি। যদিও যাবতীয় দায় ঠিকাদারদের উপরেই চাপিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ঘটনাস্থলের কাছে প্রচুর মাটি জমেছিল। ঠিকাদারদের বারবার সেই মাটি সরাতে বলেছিলেন পূর্তমন্ত্রী ও জেলাশাসক। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা হয়নি। কৃষিমন্ত্রী টি সিদ্দিকি বলেন, ‘এটা কোনো প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা নয়, বরং মানব সৃষ্ট। ঘটনাস্থলে অবৈজ্ঞানিক ভাবে মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছিল। তদন্তে সবকিছু খতিয়ে দেখবে সরকার।’ দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন ওয়েনাড়ের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। 
ধসের জেরে একটি বাস নদীতে গিয়ে পড়ে। কাদামাটির স্রোতের সঙ্গে ভেসে যায় সেতুর উপর থাকা একটি ট্যাঙ্কার। সেতুর উলটোদিকে থাকা একটি জিপকে সেটি সজোরে ধাক্কা মারে। ঘটনার যে সব ভিডিয়ো সামনে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রাণ বাঁচাতে প্রাণপণে ছুটছেন কয়েকজন। তবে বিশেষ লাভ হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে টেনে নিয়ে যায় কাদামাটির স্রোত। সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় নির্মাণস্থলে কোনো শ্রমিক ছিলেন না। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইঞ্জিনিয়ার ও নিরাপত্তারক্ষীরা মাটির তলায় চাপা পড়ে যান। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ