ভোপাল: চালু হয়েছে নতুন ওয়াকফ আইন। সেই আইন মেনে ওয়াকফ বোর্ডে নিয়োগ করা হয়েছে দু’জন হিন্দু সদস্য। তার পরেই তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে মধ্যপ্রদেশজুড়ে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে রাজ্যের মুসলিম সংগঠনগুলির মধ্যে। কারণ, এতদিন পর্যন্ত এই ওয়াকফ বোর্ডে মুসলিম ব্যতীত কেউ থাকতে পারত না। আইন পরিবর্তনের পর মধ্যপ্রদেশের নবগঠিত ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্য হিসাবে ইন্দোরের মনোজ মালপানি এবং গুনার রাঘগড়ের অনিমেষ ভার্গবকে নিয়োগ করেছে মোহন যাদব সরকার। তারপরেই বড়োসড়ো আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে মধ্যপ্রদেশের মুসলিম সংগঠনগুলি।
রাজ্যের ওয়াকফ বোর্ডকে সম্প্রতি ঢেলে সাজিয়েছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। তাদের দাবি, মধ্যপ্রদেশই দেশের প্রথম রাজ্য, যারা ওয়াকফ সংশোধনী আইন, ২০২৫ মেনে ওয়াকফ বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। ডক্টর সানওয়ার প্যাটেলকে ফের এই নতুন বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। ১০ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নাজমা হেপতুল্লা, আতিফ আকিল, ফয়জান খান, ফতেমা চৌধুরী, সাইস্তা সুলতান, শাবানা খানরা। দুই হিন্দু সদস্য হিসাবে রয়েছেন মনোজ মালপানি ও অনিমেষ ভার্গব। এর পরেই গোটা বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
একটি ইসলামি সংস্থায় কেন হিন্দু সদস্য থাকবে তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে মুসলিম মহলে। কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ মধ্যপ্রদেশ সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছেন। বলেন, ‘বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তাহলে এত তাড়াহুড়ো কেন করা হচ্ছে? এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হব।’ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংঘ ঘনিষ্ঠ মনোজ মালপানিকে নিয়োগ করার কারণে বিতর্ক আরও বেড়েছে। অন্যদিকে, ফিনান্সে এমবিএ করার পর দীর্ঘদিন বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন অনিমেষ ভার্গব। তিনিও গত এক দশক ধরে পুরোদস্তুর বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। বিজেপি ও সংঘঘনিষ্ঠ দু’জনকে নিয়োগ নিয়ে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস। ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান ডক্টর সানওয়ার প্যাটেল বলেন, আদালতের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিরোধিতার বদলে কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদকে পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।