নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ৮ হাজারের বেশি অতিথি। শহরজুড়ে তাঁবু, শেড, রাস্তা মেরামতি ও সাজসজ্জার খরচই ৩৬ কোটি টাকা। অন্নকূট পুজোর প্রচার, প্রস্তুতি এবং আচার সংস্কার ৩১ কোটি টাকায়। মন্দির সহ অযোধ্যাকে আলোকনগরী করে তুলতে এবং সাজাতে ডেকরেটর-ইলেকট্রিশিয়ানকে দিতে হয়েছে ১৪ কোটি টাকা। প্রচারের খরচ ২১ কোটি। রামমন্দির উদ্বোধনের জন্য যত টাকা খরচ হয়েছে, তার মধ্যে ১১৩ কোটি একাই খরচ করেছে রামমন্দির তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যয়ের সঠিক হিসাবপত্র আছে তো? রামমন্দিরের আর্থিক গরমিল সংক্রান্ত তদন্ত এবার আর নিছক প্রণামির বাক্স থেকে নিয়ম করে চুরি করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সম্প্রসারিত হচ্ছে আরও বৃহত্তর ক্ষেত্রে। আর সেই তালিকায় সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ হল রামমন্দির উদ্বোধনপর্ব। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি মন্দির উদ্বোধনের মহাভিষেক পর্বের ব্যয় নিয়ে এবার তদন্ত করতে নামছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট)।
জানা যাচ্ছে, সামগ্রিক খাদ্য ও প্রসাদ পরিবেশনের (অন্ন ক্ষেত্র) জন্য খরচ দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ১১ লক্ষ টাকা। ধর্মীয় আচার সংস্কারের জন্য দেড় কোটি টাকা। এই সব টাকার উৎস কী? এই টাকা খরচের যথাবিহিত রশিদ, ভাউচার, অডিট, টেন্ডার ইত্যাদি যথাযথ আছে তো ট্রাস্টের কাছে? এই সব প্রশ্ন নিয়েই তদন্তে নামতে চাইছে সিট। বিরোধীরা তো বটেই, সংঘ পরিবারের একাংশ অভিযোগ করেছে যে, প্রণামি চুরির ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ট্রাস্ট। তাই তদন্তের পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে, রামমন্দির ট্রাস্টে সিইও নিয়োগ করতে। আগামী ২২ জুলাই ফের বৈঠকে বসবে ট্রাস্ট। সেই বৈঠকে ট্রাস্টের একাংশের আপত্তি উড়িয়ে সিইও নিয়োগের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হবে। মনোনীত হবেন স্থায়ী সাধারণ সম্পাদকও।
ট্রাস্টের করা খরচ নিয়ে আরও বেশ কিছু তথ্য সামনে এসেছে। জানা যাচ্ছে, মহাকুম্ভ উপলক্ষ্যে ভালো অঙ্কের ব্যয় করেছে তারা। এছাড়া ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে রামমন্দিরে শীর্ষে পতাকা উত্তোলন পর্বে খরচ হয়েছে ১১ কোটি টাকা। এই অনুষ্ঠানেও হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশ্ন হল, যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ বেছে বেছে ট্রাস্টের এই খরচগুলি নিয়েও তদন্ত করতে নামছে কেন? তবে কি কেন্দ্রীয় সরকারের উপর ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে যোগীজির?