Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

বিশ্বকাপে ঝোড়ো ব্যাটিং রিচার, বল হাতে ঝলমলে ক্রান্তি গৌড়, পাকিস্তানকে দাপটে হারাল ভারত

মুখেন মারিতং জগত্! পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই উপমা যথাযথ। তা পুরুষদের ক্রিকেটেই হোক বা মহিলাদের।

বিশ্বকাপে ঝোড়ো ব্যাটিং রিচার, বল হাতে ঝলমলে ক্রান্তি গৌড়, পাকিস্তানকে দাপটে হারাল ভারত
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

কলম্বো: মুখেন মারিতং জগত্! পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই উপমা যথাযথ। তা পুরুষদের ক্রিকেটেই হোক বা মহিলাদের। আগের তিনটি রবিবারেই এশিয়া কাপে সূর্যকুমারদের কাছে ০-৩ হেরেছে পাক দল। এই রবিবার তা ৪-০ হল। মহিলাদের ওডিআই বিশ্বকাপে এদিন হরমনপ্রীত কাউররা হেলায় ৮৮ রানে হারালেন পাকিস্তানকে। বিতর্কিত টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে টিম ইন্ডিয়া তুলেছিল ২৪৭। জবাবে, ফতিমা সানারা ৪৩ ওভারে থামলেন ১৫৯ রানে। এই জয়ের সুবাদে দুই ম্যাচে চার পয়েন্টে তালিকার শীর্ষে উঠে এল ভারত। অন্যদিকে, টানা দুটো ম্যাচে হারল পাকিস্তান।

Advertisement

ভাগ্যিস, ক্রিকেটটা সোশ্যাল মিডিয়ায় খেলা হয় না। নইলে হয়তো ম্যাচের আগে নিজেরাই নিজেদের জয়ী ঘোষণা করত পাকিস্তান। এমনই হাব-ভাব, গলার জোর। কিন্তু বাইশ গজে প্রয়োজন পড়ে স্কিলের। সেখানে হম্বিতম্বিতে কাজ হয় না। তাই ভারতের সামনে বারবার এভাবে মুখ খুবড়ে পড়ছে সবুজ জার্সিধারীরা। ভারত অবশ্য মুখে যা বলে কাজেও করে দেখায়। এদিন ম্যাচের আগে সম্প্রচারকারী চ্যানেলে চলছিল সূর্যকুমার যাদবের সাক্ষাত্কার। সেখানে তিনি বলছিলেন, ‘কীসের দ্বৈরথ! ভারতের মেয়েদের কাছে একদিনের ফরম্যাটে ১১-০ হেরেছে পাকিস্তান। রবিবার ১২-০ হবে।’ তাই হলও। সূর্যের কথার মর্যাদা রাখলেন মান্ধানারা। আর মহিলাদের দুই ফরম্যাটের বিশ্বকাপে ভারতের পক্ষে স্কোরটা ৫-০। এর জন্য বাড়তি প্রশংসা প্রাপ্য বাংলার রিচা ঘোষের। শেষদিকে তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিংয়েই আড়াইশোর কাছাকাছি পৌঁছয় টিম ইন্ডিয়া। ২০ বলে তাঁর অপরাজিত ৩৫ রান সাজানো ২টি ছক্কা ও ৩টি চারে। তাঁকে ব্যাটিং অর্ডারে পিছিয়ে দিয়ে আট নম্বরে নামানো যে উচিত হয়নি, সেটাই বোঝালেন শিলিগুড়ির কন্যা। কঠিন পিচে নিজেকে প্রমাণ করলেন তিনি। আর সেটাও এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচে।
ভারতের ইনিংসের শুরুটা অবশ্য ভালোই করেছিলেন স্মৃতি মান্ধানা (২৩) ও প্রতীকা রাওয়াল (৩১)। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৪৮। তিনে নামা হারলিন দেওলের ব্যাট থেকে আসে ঝকঝকে ৪৬। জেমাইমা রডরিগেজের সংগ্রহ ৩২। ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত কাউর (১৯), দীপ্তি শর্মা (২৫) বড় রান পাননি। প্রমোশন পেয়ে সাত নম্বরে আসা স্নেহ রানাও (২০) সুযোগের সদ্ব্যবহারে ব্যর্থ। শেষদিকে রিচার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে স্বস্তি ফিরে আসে। পাকিস্তানের সফলতম বোলার ডায়না। তিনি ৪টি উইকেট নেন। ভারতের ইনিংসের মাঝপথে মাঠে পোকামাকড়ের উত্পাত শুরু হয়। সমস্যা এতটাই বাড়ে যে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। স্প্রে করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়। 
২৪৮ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই গুটিয়ে ছিল পাকিস্তান। মাত্র ২৬ রানে তিন উইকেট হারায় তারা। ধুঁকতে থাকা ইনিংসকে লড়াইয়ের রসদ জোগান তিনে নামা সিদ্রা আমিন। চতুর্থ উইকেটে নাতালিয়া পারভেজের (৩৩) সঙ্গে ৬৯ রান যোগ করেন তিনি। কিন্তু বাকিরা চরম ব্যর্থ। আটজন তো দুই অঙ্কের রানেই পৌঁছননি! স্নেহ রানার বলে সিদ্রা (৮১) ফিরতেই দাঁড়ি পড়ে পাকিস্তানের প্রতিরোধে। ‘ম্যাচের সেরা’ হন মধ্যপ্রদেশের বুন্দেরখণ্ড থেকে উঠে আসা ২২ বছর বয়সি পেসার ক্রান্তি গৌড়। মাত্র ২০ রানে তিন উইকেট নেন তিনি। অফস্পিনার দীপ্তিও নেন তিনটি উইকেট। আর এক অফস্পিনার স্নেহ রানার সংগ্রহ দু’টি উইকেট। রেণুকা সিং কোনও উইকেট না পেলেও আগাগোড়া চাপ রাখেন। তবে জয়ের সৌরভেও হরমনপ্রীতদের উদ্বেগে রাখছে ফিল্ডিং।   বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার জরুরি ডিআরএসের ক্ষেত্রেও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ