তিরুবনন্তপুরম: পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে কার্যত দুরমুশ করে চলেছে ভারত। রবিবার ৩০ রানে জয়ের পর হরমনপ্রীত কাউররা এগিয়ে ৪-০ ব্যবধানে। মঙ্গলবার অবধারিতভাবে দ্বীপরাষ্ট্রটিকে হোয়াইটওয়াশের জন্য মরিয়া থাকবেন ভারতীয় মহিলারা। অন্যদিকে, ঘাড়ের উপর ঝুলতে থাকা খাঁড়া এড়ানোই লক্ষ্য চামারি আতাপাত্তুদের। তবে তাঁদের পক্ষে কাজটা একেবারেই সহজ নয়। প্রথম তিন ম্যাচে ভারতীয় বোলারদের সামনে নতজানু দেখিয়েছে শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের। গত ম্যাচে আবার স্মৃতি, শেফালি, রিচারা রানের বন্যা বইয়েছেন ব্যাট হাতে। এমন পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারলে শেষ ম্যাচেও টিম ইন্ডিয়াকে অপ্রতিরোধ্যই দেখাবে।
জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে বসছে মহিলাদের টি-২০ বিশ্বরকাপের আসর। তার প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই সিরিজকে। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ রয়েছে সূচিতে। পাশাপাশি ইংল্যান্ডেও তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে অংশ নেবে ভারতীয় দল। সবটাই কাপযুদ্ধকে নিশানায় রেখে। দু’বছর আগের টি-২০ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্যায়ে ছিটকে গিয়েছিল ভারত। সেই ব্যর্থতা জোরদার ঝাঁকুনি দেয় হরমনপ্রীত ব্রিগেডকে। তারপর আগ্রাসনে সিলমোহর পড়ে। তারই নমুনা দেখা গিয়েছে রবিবার শেফালি ভার্মা, স্মৃতি মান্ধানা, রিচা ঘোষদের মারমার কাটকাট ব্যাটিংয়ে।
শেফালি রয়েছেন ফর্মের তুঙ্গে। টানা তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। এই সিরিজে ১৮৫.৮২ স্ট্রাইক রেটে ২৩৬ রান এসেছে তাঁর ব্যাটে। গড় ১১৮। রবিবার মান্ধানার সঙ্গে ওপেনিংয়ে মাত্র ৯২ বলে ১৬২ রান যোগ করেন তিনি। প্রতীকা রাওয়ালের চোটের কারণে ওডিআই বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তন ঘটে তাঁর। ফাইনালে হয়ে ওঠেন বিশ্বজয়ের প্রধান কাণ্ডারি। সেই থেকে স্বপ্নের ফর্মে আছেন শেফালি।
রবিবার মান্ধানার রানে ফেরাও স্বস্তি দিচ্ছে দলকে। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে রান পাননি তিনি। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশঙ্কিত ছিলেন, ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়-ঝাপটা জেরে ক্রিকেট কেরিয়ার ডুববে না তো! বাঁ-হাতি ওপেনারের ৪৮ বলে ৮০ রান সেজন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। পাশাপাশি, মহিলা ক্রিকেটে দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক আসরে দশহাজার রানও পূর্ণ হল স্মৃতির। আবেগতাড়িত গলায় তিনি বলেছেন, ‘ক্রিকেটে সবসময় শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। আগে যা-ই করি না কেন, ব্যাট করতে নামার সময় স্কোরবোর্ড শূন্যই দেখায়। তিনটি ফরম্যাটে ব্যক্তিগতভাবে কিছু লক্ষ্য রয়েছে। তারমধ্যে টি-২০ ঘরানায় সবথেকে বেশি ঝুঁকি নিতে হয়। দ্রুত রান তোলার লক্ষ্যে চালিয়ে খেলতে গিয়ে কখনও সখনও আশা পূরণ হয় না। তবে এটা বুঝি, কেরিয়ারে ব্যর্থতাকেও মানিয়ে নেওয়া আবশ্যক। সবদিন দলকে জেতানো সম্ভব নয়।’
ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৭টায়। সম্প্রচার স্টার স্পোর্টসে।